রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে পুলিশ তাঁকেই মূল অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছিল। মঙ্গলবার সেই সোনম রঘুবংশীর জামিন মঞ্জুর করল শিলঙের একটি আদালত। এর আগে তিন বার তিনি জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে প্রতি বারই তা নাকচ হয়েছিল। গ্রেফতারির পর থেকে ১০ মাস জেলেই ছিলেন রাজার স্ত্রী সোনম।
২০২৫ সালের মে মাসে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন রাজা এবং সোনম। সোহরা থেকে আচমকাই দু’জন নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের লোকেরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। খোঁজাখুঁজি শুরু করে পুলিশ কয়েক দিন বাদে একটি গিরিখাত থেকে রাজার দেহ উদ্ধার করে। তখনও সোনমের উপর সন্দেহ হয়নি কারও। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত যত এগিয়েছে এই ঘটনায় রহস্যের জাল ততই ঘন হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং আরও তিন জনের সহযোগিতায় রাজাকে খুনের ষড়যন্ত্র কষেছিলেন সোনম। পুলিশ একে একে সকলকে গ্রেফতার করে। সোনম, রাজ, বিশাল, আকশ এবং আনন্দ— এই পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭৯০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পরিবারের তরফে সোনমের বিরুদ্ধে কোনও আইনজীবী দেওয়া হয়নি। পূর্ব খাসি হিল্স জেলা এবং দায়রা আদালতের তরফে লিগ্যাল এইড সেলের তরফে সোনমের মামলা লড়া হয়। আদালতে সোনম বলেছেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন তিনি। আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, রাজাকে খুনের পর শিলং থেকে বেশ কয়েকটি রাস্তা বদল করে ইনদওর পৌঁছোন সোনম। সেখানে ৩-৪ দিন তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার বাড়িতে ছিলেন। ৩-৪ দিন পর সোনমকে ইনদওরের দেবাসের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান রাজ। সেখানে পৌঁছে নিজের মোবাইলের সিম খুলে রাজকে দিয়েছিলেন সেনম। তাঁর জন্য নতুন একটি সিমকার্ডের ব্যবস্থা করেন রাজ। যদিও এত কিছুর পরে বেশি দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেননি সোনম। ধরা পড়েন পুলিশের জালে। তাঁর সূত্র ধরে একে একে গ্রেফতার হন অন্য অভিযুক্তেরাও।