E-Paper

পদ্ম-কর্মীদের কথা ভেবেই দলে স্থান নয় বিদ্রোহীদের

তৃণমূল ভাঙার পিছনে শাহের হাত রয়েছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই বলেই মনে করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:৫৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে হওয়া বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের অনেকেই সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সূত্রের মতে, রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের তীব্র আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। রাজ্য নেতৃত্বের ওই অংশের মতে, সংসদে বিল পাশ করানোর প্রয়োজনে তৃণমূলের ওই বিদ্রোহী ব্লকের সমর্থন নিলেও, তাঁদের হাতে দলের প্রতীক কোনও ভাবেই তুলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

গেরুয়া শিবিরের সমস্যার হল, গত দেড় দশক ধরে যে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা পথে নেমে আন্দোলন করেছেন, এখন তাঁদেরই বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে দেখে দলের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নৈতিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সূত্রের দাবি, যে হেতু ‘অপারেশন লোটাস’-এর মূল মস্তিষ্ক হলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তাই তৃণমূলের ওই বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন কুড়ানো নিয়ে আপত্তি থাকলেও, প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিক্ষুব্ধেরা। সংসদে বিল পাশ করাতে সংখ্যা চাই— এই যুক্তি দেখিয়ে আপাতত লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের পাশে নিয়ে চলার মতো তেতো দাওয়াই গিলতে বাধ্য হচ্ছে বিক্ষুব্ধ অংশ।

তৃণমূল ভাঙার পিছনে শাহের হাত রয়েছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই বলেই মনে করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের নেতা জয়রাম রমেশের কথায়, ‘‘আসলে এপ্রিলে মহিলা বিল সংসদে পাশ করাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল না সরকারের কাছে। এতে অমিত শাহের অহংবোধ প্রবল ভাবে ধাক্কা খায়।’’ কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, তাই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরে

অনুকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শাহের নির্দেশেই তৃণমূলকে ভাঙায় বড় ভূমিকা নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও, যে হেতু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংখ্যার প্রয়োজন রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কোনও বিজেপি নেতাই। যদিও সূত্রের মতে, দলের মধ্যে যাঁরা সঙ্ঘ মনোভাবাপন্ন নেতা, তাঁদের অনেকেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের পাশে দাঁড়ানোয় অস্বস্তিতে। এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘‘লোকসভার তৃণমূল মোট সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিজেপিতে সরাসরি যোগদানে রাজি থাকলেও, দল কিন্তু আম আদমি পার্টির প্রাক্তন নেতা রাঘব চড্ডাদের মতো তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের সরাসরি দলে নেয়নি। দলের পতাকাও হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তা করা হলে কর্মী-সমর্থকদের কাছে জবাব দেওয়ার জায়গা থাকত না।’’

কিন্তু বিক্ষুব্ধ তৃণমূল ব্লক যে বকলমে বিজেপির ‘বি টিম’ সেই বার্তা যে, দিনের আলোর মতো স্পষ্ট তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বিজেপির নেতারা। দলের এক লোকসভা সাংসদদের কথায়, ‘‘এঁরা যে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, তা তো সবাই বুঝতে পারছেন। তবে রাজনীতিতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। এ ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দলের লোকসভায় বাড়তি সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের সমর্থন নেওয়া হচ্ছে।’’

তৃণমূলকে ভাঙার পিছনে ভূপেন্দ্র যাদব, শুভেন্দু ছাড়াও যে বিজেপি নেতার নাম উঠে এসেছে তিনি হলেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সম্পর্কে অসূয়া থাকলেও, মোটের উপরে অন্য তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে ভালই সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ আজ অভিযোগ করেন, ‘‘তৃণমূলকে ভাঙার যাবতীয় পরিকল্পনা সব নিশিকান্তের ঘরেই হচ্ছে।’’ সূত্রের মতে, ভোটের সময় প্রচারের উদ্দেশে প্রায় এক মাস রাজ্যে ছিলেন নিশিকান্ত। সে সময়েই তৃণমূলকে ভাঙার সলতে পাকানো শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। সুফল মিলেছে ভোটের পরে। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সাংসদেরা বেরিয়ে এসেছেন বলে বিজেপি দাবি করলেও, কীর্তি আজাদের যুক্তি, ‘‘যে সাংসদেরা স্বাক্ষর করেননি, তাঁদের বাড়িতে বিজেপির লোকেরা গিয়ে বসে রয়েছেন। পুলিশ বাড়ির বাইরে পাহারা দিচ্ছে। পরিবারের লোকেদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাই অনেক সাংসদই ভয়ে বিজেপিতে যোগ দিতেবাধ্য হয়েছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy