বেসরকারি সংস্থা মানেই নিত্য দিন কাজের চাপ, মুখ গুঁজে কাজ করে যাওয়া। তার পাশাপাশি থাকে হরেক নিয়মের বেড়াজাল। অসুস্থ হলেও কোনও ছাড় মেলে না। তবে তা কি শুধু ভারতেই, না কি এমন ‘কর্মসংস্কৃতি’ প্রচলিত গোটা বিশ্ব জুড়েই? সম্প্রতি এক অন্য রকম অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নরওয়েবাসী এক তরুণ।
আরও পড়ুন:
ওই তরুণ লিখেছেন, ১৫ বছর আগে কাজের সূত্রে নরওয়েতে পাড়ি জমান তিনি। ছুটির দিনেও কাজ করা, দুপুরের খাবার না খেয়ে কাজে ডুবে থাকা, গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা এবং অসুস্থ শরীর নিয়েও নিজেকে কাজের চাপে ঠেলে দেওয়া— ভারতীয় কর্মসংস্কৃতির এই সব অভ্যাসকেই বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। একদিন তাঁর বস্ তাঁকে ডেকে পাঠান। ওই তরুণ ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর কাজের প্রশংসা করা হবে।
কিন্তু সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কথা বলে বসেন তাঁর বস্। তিনি বলেন, “তুমি শনিবার আমার ইমেলের উত্তর দিয়েছ। আর আমাকে না জানিয়েই একটা কাজ শেষ করার জন্য ছুটি বাতিল করেছ। আমি জানি তোমার উদ্দেশ্য ভাল ছিল, কিন্তু এটা ঠিক নয়।” তিনি এ-ও বলেন, “ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তা কখনওই বাতিল করবে না। তোমার জুনিয়রেরা তোমাকে দেখছে। তারা যদি এমনটা দেখে, তবে তারা ভাববে কাজের প্রতি নিষ্ঠা বা একাগ্রতা মানেই বুঝি এমনটা করা।”
আরও পড়ুন:
এই কথায় তিনি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই তরুণ। এতে তাঁর বহু কালের একটি ধারণাকে ভেঙে যায়। কাজের পেছনে অবিরাম ছোটা, উদ্বেগ এবং সব সময় হাড়ভাঙা খাটুনির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন তিনি। সবটা উপলব্ধি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ তিনি অনুভব করেন, এর ফলে তাঁকে কত বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
পোস্টটির শেষে তিনি সকলের কাছে জানতে চেয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে বস্ কেমন মানুষ এবং অফিসের কর্মসংস্কৃতি কেমন? এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘টুরিঅ্যাটম্যান’ নামের হ্যান্ডল থেকে পোস্টটি করা হয়েছে। সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ তাতে ভালবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। অনেকে শেয়ারও করেছেন। অজস্র মন্তব্যও জমা পড়েছে মন্তব্যবাক্সে। সকলেই নিজের নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। এক জন লিখেছেন, “একদিন আমার খুব জ্বর হয়েছিল; আমি যখন জানালাম যে অফিস থেকে আমাকে বেরিয়ে যেতে হবে, তখন আমার বস্ যাওয়ার আগে দু’টি কাজ শেষ করতে বললেন। সে দিনই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আমার অর্ধেক দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়। আমার কাছে বিষয়টি টাকার ছিল না, ছিল মানবিকতার।” অন্য এক নেটাগরিক লিখেছেন, “ওঁরা জীবনকে উপভোগ করছেন। আর আমরা কেবল বেঁচে আছি।”