মধ্যস্থতার নামে ‘কাফের’ ইহুদিদের হয়ে কথা? পারস্যের যুদ্ধে নাক গলিয়ে ‘নিজের কবর নিজে খুঁড়ছেন’ ফিল্ড মার্শাল মুনির?
সম্প্রতি, তেহরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের লেজেগোবরে দশা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স। ‘পাকিস্তান্স লিডার্স ট্রাই টু কনটেইন রাইজ়িং অ্যাঙ্গার ওভার ইরান ওয়ার অ্যাট হোম’ শীর্ষক ওই প্রবন্ধের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশীর অন্দরমহলের ধর্মীয় বিবাদের ছবি।
এক দিকে ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রবল গণবিক্ষোভ ও সেনাবিদ্রোহের আশঙ্কা। অপর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাহাড়প্রমাণ চাপ। ইরানে সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সাঁড়াশি চাপে পড়েছে পাকিস্তান! আর তাই পরিস্থিতি সামলাতে শিয়া ধর্মগুরুদের ডেকে এনে বেজায় ‘ধমকছেন’ ইসলামাবাদের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। যদিও মুঠো শক্ত রেখে কত ক্ষণ গৃহযুদ্ধের বিপদ তিনি এড়াতে পারবেন, তা নিয়ে বেশ সন্দিহান বিশেষজ্ঞমহল।
সম্প্রতি, তেহরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের লেজেগোবরে দশা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স। ‘পাকিস্তান্স লিডার্স ট্রাই টু কনটেইন রাইজ়িং অ্যাঙ্গার ওভার ইরান ওয়ার অ্যাট হোম’ শীর্ষক ওই প্রবন্ধের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশীর অন্দরমহলের ধর্মীয় বিবাদের ছবি। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে সেখানে মুনিরের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ। ফলে গোটা দেশ ‘বারুদের স্তূপের’ উপর দাঁড়িয়ে আছে বললে অত্যুক্তি হবে না।
ধর্মীয় কারণে দেশভাগের জেরে জন্ম হওয়া পাকিস্তানে গোড়া থেকেই ইসলামের দু’টি শাখা, শিয়া ও সুন্নিপন্থীরা পাশাপাশি বাস করে আসছেন। তবে তাঁদের মধ্যে সদ্ভাব আছে, এমনটা নয়। ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সুন্নিরা সংখ্যাগুরু। তাঁদের বিরুদ্ধে শিয়াদের উপর হামলা করা বা ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুরের মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু, ইরান যুদ্ধে ইসলামাবাদ ‘নাক গলাতে’ই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একটা অদ্ভুত মেলবন্ধন লক্ষ করা যাচ্ছে। একযোগে সরকার ও ফৌজের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তাঁরা, জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত ৮৯ বছর ধরে বিশেষ একটি ধর্মীয় মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। সেটা হল, চরম ইহুদি ও হিন্দুবিদ্বেষ। এর জেরে আজও জেরুজ়ালেম দখলের স্বপ্ন দেখে সেখানকার আমজনতা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ফৌজ। পশ্চিম এশিয়ার আরব দুনিয়ায় ইজ়রায়েলের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে অঙ্গীকারবদ্ধ তাঁরা। আর তাই ইসলামাবাদের স্বীকৃতি এখনও পায়নি ছোট্ট ওই ইহুদি রাষ্ট্র। কিন্তু সমস্যা হল, মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ইরান যুদ্ধ থামাতে আমেরিকার নির্দেশ মেনে তেল আভিভের কথাও ভাবতে হচ্ছে মুনিরকে।
সাবেক সেনাকর্তারা মনে করেন, এর জেরে ধর্মীয় কারণে পাকিস্তানের ভিতরে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে ফাটল, যেটা আরও বাড়লে প্রবল ফৌজি বিদ্রোহের মুখে পড়বেন মুনির। আর তাই যে কোনও প্রকারে ইরানকে মধ্যস্থতায় রাজি করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। সেই লক্ষ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে তেহরানসফরে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। উদ্দেশ্য, প্রতিবেশী সাবেক পারস্যের শিয়া মুলুকটিকে ইসলামীয় ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেওয়া। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা যে পাকিস্তান নিচ্ছে না, তা-ও বোঝাতে চাইছেন ইসলামাবাদের ‘সিপাহ্সালার’।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজ়রায়েল এবং মার্কিন সেনা একযোগে ইরানকে নিশানা করলে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। লড়াইয়ের প্রথম দিনেই তেহরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে উড়িয়ে দেয় ইহুদি-মার্কিন যৌথ বাহিনী। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হয় পাক শিয়া ধর্মাবলম্বীদের একাংশ। কিছু কিছু জায়গায় সুন্নিপন্থীদের সমর্থনও পায় তাঁরা। ফলে অচিরেই প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করাচি, স্কার্দু ও ইসলামাবাদের মতো শহরের পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ।
এই অবস্থায় দ্রুত বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া পদক্ষেপ করে পাক পুলিশ ও রেঞ্জার্স। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ। তাতে প্রাণ হারান অন্তত ৩৫-৫০ জন। কিন্তু তার পরেও আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভকে পুরোপুরি দমাতে পারেননি মুনির। উল্টে বার বার ইরানের পক্ষ নিয়ে ইহুদিদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে সেখানকার ধর্মগুরুদের। এতে ইসলামাবাদের ফৌজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কপালের ভাঁজ যে ক্রমশ চওড়া হয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
গত মার্চে গণবিক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলে রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দফতরে শিয়া ধর্মগুরুদের ডেকে পাঠান পাক সেনার সর্বাধিনায়ক (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল মুনির। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে তাঁদের একরকম হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ‘‘বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও রকমের হিংসা বরদাস্ত করবে না ইসলামাবাদ। কেউ যদি ইরানকে ভালবাসেন, তা হলে তিনি সেখানে চলে যান।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পর কট্টরপন্থীদের মধ্যে পড়ে যায় শোরগোল। তেহরানে হওয়া ইহুদি আগ্রাসনকে কি তবে সমর্থন করছেন মুনির? ওঠে প্রশ্ন।
রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া শিয়া ধর্মগুরুদের সঙ্গে মুনিরের বৈঠক নিয়ে অবশ্য বিবৃতি দিতে দেরি করেনি পাক সেনার ‘আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ’ শাখা বা আইএসপিআর (ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশান্স)। সেখানে ফিল্ড মার্শালের হুমকি দেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে ইসলামাবাদের ফৌজ। উল্টে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারে উলেমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ)। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে গণমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শিয়া ধর্মগুরুদের।
আরও পড়ুন:
এ ব্যাপারে পাক পোর্টালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল্লামা মুহাম্মদ শিফা নাজ়াফি বলেন, ‘‘ফিল্ড মার্শাল মুনির ইসলামাবাদের প্রতি আমাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থেকে সেটা করা যায় না। মনে রাখতে হবে, এই দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ শিয়া। তা ছা়ড়া মহম্মদ আলি জিন্নাহ একজন শিয়া ছিলেন। তাঁর হাত ধরে জন্ম হয়েছে পাকিস্তানের। এখানকার ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে আমাদের নাড়ির যোগ রয়েছে। ফলে বহিরাগত হিসাবে চিহ্নিত করে কেউ বিমাতৃসুলভ আচরণ করলে, সেটা বরদাস্ত করব না।’’
প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে ‘মজলিস ওয়াহদাত-এ-মুসলিমিন’ নামের ধর্মীয় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান তথা শিয়া ধর্মগুরু আল্লামা সৈয়দ আহমেদ ইকবাল রিজ়ভীর গলায়। সরাসরি মুনিরকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশমতো কাজ করতে গিয়ে আপনারা পাকিস্তানের ক্ষতি করছেন। আমেরিকার দাস হয়ে থাকার জন্যই ক্রমশ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলেন ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ইরান যুদ্ধের মূল চক্রী বলা যেতে পারে। এ বার কি তবে মধ্যস্থতার নামে তেল আভিভের সুবিধা করে দেবে রাওয়ালপিন্ডি?’’
সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদের আরও একটি সমস্যা রয়েছে। প্রশিক্ষণের সময় থেকেই ইরাক-ইরান থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার আরব দুনিয়ার একাধিক মুসলিম সেনাপতির বিজয়গাথা শুনে বড় হন পাক ফৌজের অফিসার ও জওয়ানেরা। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি তাঁদের একাংশের মনে রয়েছে মারাত্মক ধর্মীয় বিদ্বেষ। অন্য দিকে মার্কিন শর্তে লড়াই থামাতে তেহরানের উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করে যাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির। ফলে তাঁর নিজের সেনাবাহিনীর অন্দরেও এই নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ।
সাবেক সেনাকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, আগামী দিনে ইরানে ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ চালাবেন ট্রাম্প। সেই অভিযানে পাক ভূমি যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করবে মার্কিন ফৌজ। আর্থিক দুরবস্থার কারণে ওয়াশিংটনের সেই আবদার ফিল্ড মার্শাল মুনির মেনে নিলে পাক সেনায় দেখা যাবে বিদ্রোহ। কারণ, বাহিনীর কট্টরপন্থী অফিসার ও জওয়ানদের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব। তা ছাড়া এ ব্যাপারে শিয়া ও সুন্নি, দুই ধরনের ধর্মগুরুদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আর তাই মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের মধুর সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার ভিতরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ফক্স নিউজ় ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন সামরিক নজরদার সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসি’-এর সিনিয়র ফেলো বিল রোগিয়ো। তাঁর কথায়, ‘‘প্রেসিডেন্টের কোনও অবস্থাতেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কারণ, অতীতে আফগানিস্তানের যুদ্ধে পিঠে ছুরি বসানো বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছে ইসলামাবাদ। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তালিবানকে সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে তারা। ইরানের ক্ষেত্রেও তেমনই মতলব রয়েছে মুনিরের।’’
এ ছাড়া মধ্যস্থতার নামে ইসলামাবাদের ‘ষড়যন্ত্রের’ পর্দাফাঁস করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পাক সেনাকর্তা আহমেদ সইদ। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের মূল ফৌজ ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসির বহু কমান্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে মুনিরের। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কুর্দ ফোর্সের সাবেক জেনারেল কাসেম সুলেমানি। ২০২০ সালে ইরাকে ড্রোন হামলায় তাঁকে হত্যা করে মার্কিন সেনা।
পাশাপাশি, আইআরজিসির কমান্ডার হুসেন সালামির কথাও বলা যেতে পারে। গত বছরের (২০২৫ সাল) জুনে ইজ়রায়েলি বিমানহানায় মৃত্যু হয় তাঁর। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বর্তমানে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে দু’নৌকোয় পা দিয়ে চলার চেষ্টা করছেন মুনির। তাঁর উদ্দেশ্য হল, সাহায্যের নাম করে ট্রাম্পের থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া। এই অর্থ আগামী দিনে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ফুলেফেঁপে উঠতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, গোপনে ইরানি ফৌজকে মদত জুগিয়ে লড়াই চালু রাখতে চাইছেন তিনি।
এ ব্যাপারে অবশ্য আরও একটা তত্ত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সেটা হল, ইরান যুদ্ধে পাক ফৌজের সাহায্য চেয়ে ট্রাম্প যে চাপ তৈরি করতে পারেন, তার ইঙ্গিত আগেই পেয়ে গিয়েছেন ইসলামাবাদের ফিল্ড মার্শাল। আর তাই প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে দেরি করেননি তিনি। মুনিরের নির্দেশে ফেব্রুয়ারিতেই হিন্দুকুশের কোলের দেশটিতে হামলা শুরু করে রাওয়ালপিন্ডির বিমানবাহিনী। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে সক্ষম হন পশ্চিমের প্রতিবেশীর সেনা সর্বাধিনায়ক।
এপ্রিল আসতে আসতে অবশ্য অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে পাক-আফগান যুদ্ধ। যদিও সীমান্তে অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’-এর জন্য ইসলামাবাদের জমি ব্যবহার করতে চাইলে, আমেরিকার সামনে নাটক করার সুযোগ পাবেন মুনির। পঠানভূমির সঙ্গে সংঘর্ষের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন তিনি। এই একটি রাস্তা বাদ দিলে তাঁর সামনে সেনাবিদ্রোহ ঠেকানোর আর কোনও রাস্তা নেই বলেই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।
মুনিরের এ-হেন দু’মুখো নীতির কারণে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ইজ়রায়েল। তেল আভিভের অভিযোগ অবশ্য পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় ইসলামাবাদ। তবে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইহুদিবিদ্বেষের পরিচয় দিতে পিছপা হননি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজ়া আসিফ। কিছু দিন আগে সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্ট ইজ়রায়েলকে ‘ক্যানসার রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ফলে সব দিক বজায় রাখতে পশ্চিমের প্রতিবেশীর ফিল্ড মার্শাল কী চাল দেন, সেটাই এখন দেখার।