Advertisement

প্রাক্তন সাংসদের পেনশন নেবেন না সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি লিখে জানিয়ে দিলেন আইনজীবী নেতা

২০২০ সাল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন বিকাশ। সদ্যই তাঁর মেয়াদ ফুরিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তিনি যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৮
CPM leader Bikas Bhattacharya writes to Rajya Sabha Secretariat not to take pension as retired MP

রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ হিসাবে পেনশন নেবেন না বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ বৃহস্পতিবার এই মর্মে চিঠি লিখেছেন রাজ্যসভার সচিবালয়কে। সেই চিঠিতে বিকাশ তাঁর সিদ্ধান্তের কথা অবগত করেছেন। চিঠির একেবারে নীচে বাংলায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

কেন এই সিদ্ধান্ত? বিকাশ বলেন, ‘‘আমার পেনশনের প্রয়োজন নেই। তাই নেব না।’’ এই সিদ্ধান্ত কি পার্টির অনুমোদনক্রমে ক্রমে নেওয়া হয়েছে? জবাবে আইনজীবী বাম নেতা বলেন, ‘‘সব কিছুতে পার্টির অনুমোদন লাগে নাকি! এটা আমার সিদ্ধান্ত।’’ সাধারণত, সিপিএমের জনপ্রতিনিধি হলে তাঁরা যে বেতন বা বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসাবে ভাতা পান, তা দলকে দিয়ে দিতে হয়। একটি অংশ দল তাঁকে দেয়। পেনশনের অর্থের ক্ষেত্রেও একই বিধি সিপিএমে। যেমন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, রামচন্দ্র ডোমেরা প্রাক্তন সাংসদের পেনশন দলকেই দিয়ে দেন।

বিকাশের এ হেন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে বামকর্মী সমর্থকেরা ‘ব্যতিক্রমী’ প্রচারের আখ্যান তৈরি করলেও দলের অন্দরে ভিন্ন মত রয়েছে। সিপিএমের এক প্রাক্তন সাংসদের কথায়, ‘‘প্রাক্তন সাংসদ হিসাবে এক জন যে পেনশন পান, তাতে দলের তিন-চার জন সর্ব ক্ষণের কর্মীর এক মাসের পারিশ্রমিক হয়ে যেত। সে দিক থেকে এই দুর্দিনে এ হেন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।’’

Advertisement

২০২০ সাল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন বিকাশ। সদ্যই তাঁর মেয়াদ ফুরিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তিনি যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কমিশনে বিকাশ যে হলফনামা জমা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী, হাতে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা নগদ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন বিকাশ। স্থায়ী আমানত, পিপিএফ-সহ ব্যাঙ্কে তাঁর মোট সাতটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ তহবিলের অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু জায়গায় বিনিয়োগ রয়েছে বিকাশের। তাঁর স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের মোট চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। আপাতত তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা।

২০১৫ সালে ৩ লক্ষ টাকার একটি গাড়ি কিনেছিলেন বিকাশ। এর পর ২০২৫ সালে ৭২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি অডি কেনেন। এই দু’টি গাড়িই তিনি ব্যবহার করেন। বিকাশের স্ত্রীর কাছে মোট ৬০০ গ্রাম গয়না রয়েছে, হলফনামা অনুযায়ী যার আনুমানিক বাজারদর ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। বিকাশের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪৯ টাকার। বিকাশের স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। নিজের নামে বাড়িও নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে দু’টি বাড়ি রয়েছে। স্ত্রীর মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা।

Bikash Ranjan Bhattacharya CPM Leader MP Pension CPM candidate Rajya Sabha MP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy