আজ, বুধবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলায় দ্বিতীয় তথা অন্তিম পর্যায়ের ভোট গ্রহণ রয়েছে। ভোট-পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এবং ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াত মসৃণ করতে চলতি বছরে বিপুল সংখ্যায় বেসরকারি ও সরকারি বাস রুট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও পর্যবেক্ষকদের যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি, অ্যাপ-ক্যাব এবং ছোট গাড়িও নেওয়া হয়েছে। এর জেরে ভোটের দিন রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বেশ কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
কলকাতায় চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, বি টি রোড, ই এম বাইপাস, রবীন্দ্র সদন, উল্টোডাঙা,নাগেরবাজার, নিউ টাউনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে বেসরকারি বাস চলাচল করলেওতার সংখ্যা বেশ কম থাকবে বলে সূত্রের খবর। সংখ্যা কম থাকলেও রাস্তায় অ্যাপ-ক্যাব এবং হলুদ ট্যাক্সি চলাচল করবে বলে জানাচ্ছেন অ্যাপ-ক্যাব এবং ট্যাক্সিচালক সংগঠনের নেতৃত্ব।
ভোটের আগের সন্ধ্যায় মোটরবাইক চলাচল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আজ, ভোটের দিন অ্যাপ-নির্ভর বাইকের পরিষেবা চালু থাকছে। বাইক চলাচলের নির্দেশিকাও শিথিল হচ্ছে।সরকারি ও বেসরকারি বাস, অ্যাপ-ক্যাব, ট্যাক্সি ছাড়াও শহর জুড়ে বিভিন্ন রুটে অটো চলাচল করবে। তবে, সকালের দিকে অটোর সংখ্যা বেশ কম থাকবে বলে অটোচালক ইউনিয়ন সূত্রের খবর। দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের মূলত মেট্রো পরিষেবার উপরেই নির্ভর করতে হবে।
উত্তর-দক্ষিণ এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো ছাড়াও জোকা-মাঝেরহাট, নিউ গড়িয়া-বেলেঘাটা এবং নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রোর ক্ষেত্রে এ দিন সকাল থেকেই নির্ধারিত সূচি মেনে মেট্রো ছুটবে। রাতের অন্তিমমেট্রোর ক্ষেত্রেও সূচির বদল হচ্ছে না। কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নানমঙ্গলবার বলেন, ‘‘যাত্রীদের স্বার্থে মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকছে।’’
তবে, শহরতলির ট্রেনের ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ডিভিশনে রবিবারের ধাঁচে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা কম থাকার জন্য দুপুর এবং বিকেলের দিকে ট্রেনের সময়ের ব্যবধান বাড়তে পারে। হাওড়া ডিভিশনের ক্ষেত্রেও লোকালট্রেনের সংখ্যা কিছুটা কম থাকতে পারে। ফলে, দরকারি কাজে বেরোলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বেরোনো জরুরি বলে জানাচ্ছেন ওয়াকিবহালমহলের লোকজন। তবে ট্রেনের সংখ্যা কম থাকলেও সব রুটে ট্রেন চলাচল করবে।
এ বারের নির্বাচনে সরকারি বাসকেও নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শহরের রাস্তায় বাসের ঘাটতি ভাল মতোই চোখে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে আজ, ভোটের দিন শহরতলির লোকাল ট্রেন এবং মেট্রোই শহরবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রধান ভরসা হয়ে উঠতে চলেছে বলে জানাচ্ছেন রেল এবং মেট্রোর আধিকারিকেরা। তবে সমস্যা থাকলেও পরিবহণ পরিষেবা কম-বেশি সর্বত্র চালু থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)