ভারতের আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার খবর উড়িয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এ রকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওই জাহাজের সব নাবিক সুস্থ রয়েছেন।
তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং সেই হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঘিরে যখন আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই ওমান উপসাগরে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। লিয়াকি ফ্রিডম নামে ওই জাহাজে শনিবার হামলা চালানো হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এই জাহাজেও বেশ কয়েক জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক হামলা চালানোর দাবি খারিজ করেছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা ঘিরে যখন হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়, এ রকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সিএনএন নিউজ় ১৮-কে জানিয়েছেন, এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। হামলার খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, এ রকম কিছু ঘটেনি। নাবিকেরা সকলেই সুরক্ষিত আছেন। জয়সওয়াল বলেন, ‘‘লিয়াকি ফ্রিডম জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনিই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজে কোনও হামলা হয়নি। নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।’’
আরও পড়ুন:
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফরোয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)-র তরফে জানানো হয়েছিল, লিয়াকি ফ্রিডম নামে জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। কারণ, জাহাজের ‘ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি’ (ভিএইচএফ) রেডিয়ো কাজ করছে না। তবে জাহাজটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থান জানা গিয়েছে। হামলার পর জাহাজের অবস্থা কী, নাবিকরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, কোনও প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও এই ঘটনা ঘিরে যখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তখন বিদেশ মন্ত্রক দাবি করে, কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। গিনি-বিসৌয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘জলবীর’-এ এই হামলা হয়। তার আগে ১০ জুন এমটি সেটেবেলো নামে জাহাজে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এই হামলার কথা স্বীকারও করা হয়। ওই দিন ম্যারিভেক্স নামে আরও একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক নাবিক ছিলেন। যদিও সকলকেই উদ্ধার করেছিল ওমান প্রশাসন।