Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটার তালিকার পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হবে সোমবার! নাম বাদ পড়লে আবেদন করা যাবে, ট্রাইবুনাল গড়ে ফেলল হাই কোর্ট

ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ ১৯ জন বিচারপতি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ২১:২৪
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী সোমবার। এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র। ওই তালিকায় নাম বাদ গেলে আপিল করা যাবে ট্রাইবুনালে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ট্রাইবুনালে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ, বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ ১৯ জন বিচারপতি। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে।

রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। আগামী সোমবার বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হবে। দ্বিতীয় তালিকাও ওই সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার প্রকাশ হতে পারে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা। যদি কোনও ভোটারের নাম অতিরিক্ত তালিকায় না তোলা হয় বা কেটে দেওয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা এই যাবে ট্রাইবুনালে। সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে সেখানে আপিল করা যাবে।

দু’টি উপায়ে আপিল করা যাবে। এক, অনলাইনে। দুই, অফলাইনে। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করা যাবে। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকের কাছে অফলাইনেও আবেদন করা যাবে। এই ট্রাইবুনাল এখন থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে। সব আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এই ট্রাইবুনাল আর থাকবে না।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভোটারদের আপিল শুনবেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। উত্তর ২৪ পরগনার মানুষজনের আপিল শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়। পূর্ব মেদিনীপুরের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন, কোচবিহারের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি প্রণবকুমার দেব, নদিয়ার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়, হাওড়ায় আপিল শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোককুমার দশাধিকারী। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের ভোটারদের আপিল শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দীপক সাহা রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী, দক্ষিণ দিনাজপুরে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তৌফিক উদ্দিন, মুর্শিদাবাদে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ, হুগলিতে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মহম্মদ মুমতাজ খান, পশ্চিম বর্ধমানে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মির দারা শুকো। উত্তর দিনাজপুরে ভোটারদের আপিল শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে, মু্র্শিদাবাদে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, বীরভূমে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মনোজিৎ মণ্ডল, মালদহে শুনবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন যে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম ‘যোগ্য’ হিসাবে রয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে ওই বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা। এই ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘বিবেচনাধীন’ যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, তালিকা নিয়ে ভোটারদের আপত্তি, অভিযোগ থাকলে বিচার করবে ট্রাইবুনাল। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং বিচারকদের নিয়ে তৈরি হবে ট্রাইবুনাল। তালিকা নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাই কোর্ট যে বিচারকদের (এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের) দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

এই মাসের মধ্যে আরও ২ হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। এর আগে ৪৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। অন্য দিকে, মানিকতলায় তৃণমূল এবং বিজেপির গন্ডগোলের ঘটনায় উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
২ ঘণ্টা আগে
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy