বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন আসনে প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। জমা দিয়েছিলেন নিজের বায়োডেটাও! কিন্তু বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থীতালিকায় ওই আসনে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। আর সেই সঙ্গে নাম না করে টেনে আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহের পরিবারকে।
রিঙ্কু জানিয়েছেন, নিজের ক্ষোভের কথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার নাম না করে বলেন, ‘‘যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।’’ শুক্রবার বিধাননগরে বিজেপির দফতরে এসে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গে দেখা করেন রিঙ্কু। বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে টিকিট না দেওয়া উচিত হয়নি। আমি দিলীপ ঘোষের আগে থেকে বিজেপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।’’
আরও পড়ুন:
এ বারের বিধানসভা ভোটে প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র খড়্গপুরে প্রার্থী করা হলেও বাদ পড়েছেন রিঙ্কু। যে হেতু সাংগঠনিক প্রথা মেনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থিতালিকা চূড়ান্ত করেন, তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেই তিনি ক্ষোভ জানিয়ে এসেছেন বলে দাবি দিলীপ-জায়ার। কিন্তু জবাবে ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব’ তাঁকে কী বললেন? রিঙ্কু বলেন, ‘‘আমাকে নেতৃত্ব বলেছেন দাদাকে (দিলীপ) জেতাতে। আমি বলেছি, ‘দাদাকে জেতানোর জন্য আমাকে প্রয়োজন নেই। বিজেপি কর্মীরাই যথেষ্ট। তবে আমি খড়্গপুরে যাব’।’’
আরও পড়ুন:
এর পরেই নাম না করে শুভেন্দু এবং অর্জুনকে নিশানা করেন রিঙ্কু। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে প্রার্থী করা হবে না। কিন্তু তা হয়েছে। অধিকারী পরিবার, সিংহ পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিকিট পেয়েছেন।’’ প্রসঙ্গত, এ বারের বিধানসভা ভোটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু তাঁর পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর ভাই তথা তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু টিকিট পেয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায়। অন্য দিকে, অর্জুন নোয়াপাড়া আসন থেকে ভোটে লড়ছেন। তাঁর পুত্র তথা ভাটপাড়ার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক পবন সিংহ ওই আসন থেকেই আবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন।