বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দফতর এ কথা জানিয়েছে। ভোটারেরা যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ কলে কমিশনের দাবি।
কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। হয়েছে রুট মার্চ। যাঁরা অশান্তি করছেন, তাঁদের তালিকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছিল কমিশন। জওয়ান এবং কর্মী মিলিয়ে এক কোম্পানিতে ১০০ থেকে ১২০ জন করে সদস্য। অর্থাৎ, গোটা পশ্চিমবঙ্গের জন্য আনুমানিক ৫০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তা-ও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মার্চের প্রথম দিকেই ২৪০ কোম্পানি (অর্থাৎ ২৮০০০) বাহিনী রাজ্যে চলে এসেছে।
আরও পড়ুন:
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেঅস্ত্র জমা ও বাজেয়াপ্তের কাজ শুরু হয়েছে। সিইও দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেঅস্ত্র রয়েছে ৫২৮১৪টি। তার মধ্যে জমা ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২০৬২৯টি। রাজ্যের ভিতরে নাকা রয়েছে ৫৭১টি জায়গায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
গত বারের মতোই এ বারের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে এমন বুথগুলিকে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না এবং ভোটারদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ভোটে কোথায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে, তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তা অনুযায়ী কলকাতায় ২৮৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে পারে। প্রথম দফায় ২৫৬৯ এবং দ্বিতীয় দফায় ২১৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে প্রাথমিক ভাবে ঠিক করা হয়েছ। প্রথম দফায় ৩০০ কোম্পানির বেশি বাহিনী থাকবে মুর্শিদাবাদে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে থাকবে যথাক্রমে ২৮৬ এবং ২৮১ কোম্পানি। মালদহে ১৮৬ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৫০ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ২১৩ কোম্পানি, বীরভূমে ১৮৭ কোম্পানি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমান ২৫৬, হুগলি গ্রামীণ ১৯৮, ডায়মন্ড হারবারে ২১০ কোম্পানি বাহিনী থাকতে পারে।