গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনার ধৃত ন’জনকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফ থেকে আবার অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল বিচারকের কাছে। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শেষপর্যন্ত বিচারক ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, এই ঘটনা সাজানো। এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রীও সঠিক নিয়ম মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়নি । সিসিটিভি বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামিনের আবেদন করা হয় অভিযুক্ত পক্ষের তরফে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন বুধবার গিরিশ পার্ক-কাণ্ডে পুলিশ রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন করে রিপোর্ট তলব করেছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের দিনে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে ওই অশান্তির ঘটনা এক ঘণ্টা ধরে চললেও কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি, সে কৈফিয়তও তলব করেছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
গত ১৪ মার্চ বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশমুখী একাধিক বাসের উপরে হামলার ঘটনা ঘটে গিরিশ পার্ক এলাকায়। এলাকার বাসিন্দা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশীর অনুগামীরা সেই হামলা চালাচ্ছিলেন বলে বিজেপির অভিযোগ। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা বিনা প্ররোচনায় অশান্তি তৈরি করেছিলেন। মন্ত্রী শশীর বাড়িও আক্রান্ত হয়। দু’পক্ষেরই বেশ কয়েক জন আহত হন। জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করও। ওই ঘটনা নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। তাতে দাবি করা হয়েছে, অশান্তি হতে পারে বলে কলকাতা পুলিশের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করা হয়নি।
গিরিশ পার্ক-কাণ্ডের পরেই স্বতঃপ্রবৃত্ত মামলা করেছিল পুলিশ। তার পরে শনিবার গভীর রাতে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি দু’পক্ষই। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনায় মোট আট জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রসাদ জয়সওয়াল, প্রসূন পাত্র, বিকি বেরা, গোবিন্দ কর্মকার, দীপজিৎ দাস, সানি দে, চরণজিৎ সিংহ, কৃশানু বসু, রাজেশ কুমার। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমায়েত, খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ডব্লিউবিএমপিও (জনসুরক্ষা) আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
০০:০১
আপনার আসনে কোন দল এগিয়ে? কোন জেলায় কে কোথায় রয়েছে? এখানে পাবেন ২৯৩টি আসনের ছবি -
০০:০১
তৃণমূলই ফিরবে? না পশ্চিমবঙ্গেও পদ্ম ফোটাবে বিজেপি? ২৯৩ আসনের ভোট গোনা হবে সোমবার, তাকিয়ে গোটা দেশ -
২০:৩৪
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনও ঢিলেমি সহ্য করবে না কমিশন! কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ফের বার্তা দিলেন সিইও মনোজকুমার -
১৯:০০
গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশিত হলে কড়া পদক্ষেপ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন -
১৮:১৬
এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব