গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। কিন্তু পেন? সেটিও কি সঙ্গে রাখতে পারবেন না প্রার্থীর কাউন্টিং এজেন্টেরা? সমাজমাধ্যমে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের এক পোস্ট ঘিরে সেই প্রশ্নই উঠতে শুরু করে। যদিও কমিশনের বক্তব্য, পেন নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশে কোনও আপত্তি নেই। সঙ্গে কী কী রাখা যাবে, তা-ও জানিয়েছে কমিশন।
গণনাকেন্দ্রে যে এজেন্টেরা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না, তা আগে থেকেই জানানো ছিল কমিশনের তরফে। তবে বিতর্কের সূত্রপাত কুণালের এক সমাজমাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বলছে কলম নিয়ে ঢুকতে দেবে না।” ওই পোস্টের সঙ্গে একটি ফ্লেক্সের ছবিও শেয়ার করেন তিনি (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল, বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি, ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট, পানীয় জল, টাকার ব্যাগ, পার্স, লাইটার, দেশলাই, কোনও দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। সেই ‘না’-এর তালিকায় উল্লেখ রয়েছে পেন বা কোনও ধারালো বস্তুরও।
এই ছবি পোস্ট করে ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ উস্কে দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, এজেন্টদের সঙ্গে মোবাইল থাকবে না, পেন নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশও যদি আটকানো হয়, তবে বুথভিত্তিক গণনার হিসাব কী ভাবে করবেন এজেন্টেরা? কুণাল লেখেন, “পুরোটা গুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। হিসাব লুটের চেষ্টা।”
এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবালের দফতরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, প্রার্থীর এজেন্টদের পেন নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। কী কী নিয়ে প্রার্থীর এজেন্টেরা গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তা-ও জানিয়েছে সিইও দফতর। জানানো হয়েছে, পেন, পেন্সিল, সাদা কাগজ, নোটবই, ফর্ম ১৭সি-র ডুপ্লিকেট কপি, রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া পরিচয়পত্র এবং ফর্ম ১৮ (নিয়োগপত্র) নিয়ে প্রার্থীর এজেন্টেরা গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের (ফলতায় নতুন করে ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন) জনতার রায় স্পষ্ট হয়ে যাবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে। কলকাতার ১১টি আসনের জন্য পাঁচটি গণনাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র লাগোয়া নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হবে চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা।
এ ছাড়া ভবানীপুরের গণনা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের গণনা ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুলে, রাসবিহারীর গণনা বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে এবং বালিগঞ্জ কেন্দ্রের গণনা বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে। যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজে ভাঙড়, সোনারপুর উত্তর এবং সোনারপুর দক্ষিণ, আলিপুর জাজেস কোর্টের বিহারীলাল কলেজে বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং কসবা বিধানসভা আসনের গণনা হবে। আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সে হবে মহেশতলা, মেটিয়াবুরুজ, বজবজ, যাদবপুর এবং টালিগঞ্জের ভোটগণনা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
০০:০১
আপনার আসনে কোন দল এগিয়ে? কোন জেলায় কে কোথায় রয়েছে? এখানে পাবেন ২৯৩টি আসনের ছবি -
০০:০১
তৃণমূলই ফিরবে? না পশ্চিমবঙ্গেও পদ্ম ফোটাবে বিজেপি? ২৯৩ আসনের ভোট গোনা হবে সোমবার, তাকিয়ে গোটা দেশ -
২০:৩৪
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনও ঢিলেমি সহ্য করবে না কমিশন! কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ফের বার্তা দিলেন সিইও মনোজকুমার -
১৯:০০
গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশিত হলে কড়া পদক্ষেপ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন -
১৮:১৬
এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব