দেড় দশক আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। অন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস’ প্রকাশিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাস সূচক (গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স) ২০২৬’ তালিকায় আবার এক নম্বর স্থানে রইল পাকিস্তান!
আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ কবলিত রাষ্ট্র বুরকিনা ফাসোকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে পাকিস্তান। প্রকাশিত রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে ভারতের পড়শি দেশে মোট ১০৪৫টি জঙ্গিহানার ঘটনায় ১১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন নজির বিশ্বে আর কোনও দেশের নেই। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫-এ সেখানে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা বেড়েছে ছ’গুণ। বস্তুত, গত এক যুগ ধরেই পাকিস্তান এই তালিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জমানার মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ইসলামাবাদে গিয়ে তৎকালীন পাক বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। আলোচনার শেষে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ‘‘তুমি নিজের উঠোনে সাপ পুষবে, অথচ ভাববে, সেটা শুধু পড়শিকেই ছোবল মারবে, তা হয় না! শেষপর্যন্ত সেই সাপ তার পালককেও রেহাই দেবে না।” সরাসরি কিছু না বললেও হিলারির নিশানা ছিল পাক সেনা এবং সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত ‘দ্বিমুখী নীতি’।
‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস’-এর রিপোর্ট বলছে, মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ‘সক্রিয়তা’ বাড়ার কারণেই পাকিস্তানে ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে বলে জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। টিটিপি দমন অভিযানে নেমে গত এক বছর ধরে পড়শি দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে পাক সেনা। ২০২৫ সালে টিটিপি (যাদের পাকিস্তান সরকার ‘ফিতনা আল-খোয়ারিজ় নামে চিহ্নিত করে) হামলা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহত হয়েছেন ৬৩৭ জন। ‘বিশ্ব সন্ত্রাস সূচক’-এ ভারত রয়েছে ১৩ নম্বরে। তার বড় কারণ ২০২৫-এ পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ ৪২ এবং গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত মায়ানমার ১৪ নম্বর স্থানে রয়েছে। ১০ নম্বরে রয়েছে ইজ়রায়েল।