মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের সামনে যে ‘তাণ্ডব’ চলেছিল, তার রেশ ছিল বুধবারও। পরিস্থিতি সামলাতে ১৬৩ ধারার পরিধি বৃদ্ধি করতে হয়েছে পুলিশকে। কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশনও। মঙ্গলবার রাতে যে কাণ্ড ঘটেছে, তা ‘দুষ্কৃতীদের অসামাজিক কাজকর্ম’ বলেই মনে করছে কমিশন। বলে দিয়েছে, এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বেলেঘাটার তৃণমূল কাউন্সিলর (যিনি মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভের সময়ে উপস্থিত ছিলেন)-এর কথা উল্লেখ করে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
বুধবার কমিশন জানিয়েছে, “বেলেঘাটার কাউন্সিলর কয়েক জন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে সিইও দফতর ঘেরাও করেন এবং গভীর রাতে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। আইন আইনের পথে চলবে। বিধানসভা ভোটকে অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে যা যা করণীয়, সব পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন।”
মঙ্গলবার রাতের ‘তাণ্ডব’-এর পর বুধবার সকালে পরিস্থিতি দৃশ্যত শান্ত ছিল। সে ভাবে কোনও বড় জমায়েত ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিশও। যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না-পারে, সে দিকে সদা সচেষ্ট ছিল পুলিশ। তবে এরই মধ্যে বুধবার দুপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। দুপুরে সিইও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান এসইউসিআই-এর কর্মী-সমর্থকেরা। সিইও মনোজ আগরওয়াল যখন দফতরে ঢুকছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন সেখানে জড়ো হওয়া তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভের জেরে বুধবার দুপুরে সিইও অফিসের সামনে স্ট্র্যান্ড রোডে বেশ কিছু ক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাময়িক ভাবে থমকে যায় যান চলাচলও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিইও অফিসের আশপাশে ১৬৩ ধারার পরিধি বিস্তার করে কলকাতা পুলিশ। আগে কেবল সিইও অফিসের সামনেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। বুধবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, স্ট্র্যান্ড রোডের রাস্তা এবং দু’পাশের ফুটপাত-সহ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্তও।
দুপুরের ওই বিক্ষোভের পর নতুন করে আর কোনও উত্তেজনা ছড়ায়নি সিইও দফতরের সামনে। বিকেল থেকে সিইও দফতরের সামনের চত্বর মোটের উপর ফাঁকাই রয়েছে। বস্তুত, ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদনপত্র (ফর্ম ৬) ঘিরে গত সোমবার থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মঙ্গলবারও ওই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজনা শুরু হয় দুপুর থেকেই। আচমকা স্ট্র্যান্ড রোডে সিইও দফতরের সামে হাজির হন তৃণমূলপন্থী কয়েক জন বিএলও। ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে কয়েক জন সিইও দফতরে এসেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভের সময়ে হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি কর্মীরা। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। তা নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং রাতের দিকে তা চরমে পৌঁছোয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। দু’পক্ষের মাঝে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৮:২৩
সিসিভিটি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক -
১৫:৫৯
কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে? বললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা -
১৫:১৯
হিংসা রুখতে রাজনীতির রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ করুন! মুখ্যসচিবকে বার্তা শমীকের, বিধাননগরে বৈঠকে বিজেপি -
১৫:১৮
জয় উদ্যাপন করে বাড়ি ফেরার পথে খুন বিজেপি কর্মী! ভোট-পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা উদয়নারায়ণপুরে, গ্রেফতার এক -
১৫:০৬
‘ক্ষমতায় এলে একদিন যেতে হয়’! ভোটে হারের পরদিন বিধানসভায় অফিস ছাড়ার সময় বললেন বিদায়ী স্পিকার বিমান