আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে ‘চিড়’ ধরেছে বামফ্রন্টের ঐক্যে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আইএসএফ-এর জন্য ‘নিজেদের আসন’ ছেড়ে দিতে নারাজ বাম শরিকেরা। ঘোষণা করতে শুরু করেছে পাল্টা প্রার্থী। বুধবার মধ্যমগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। প্রার্থী করা হয়েছে নিতাই পালকে। অথচ, এই আসন থেকে প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মণকে আগেই প্রার্থী করেছে আইএসএফ।
মঙ্গলবার বামফ্রন্টের আর এক শরিক আরএসপি বাসন্তী আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। সেই আসনে ইতিমধ্যে আইএসএফ-এর প্রার্থী রয়েছে। ফলে আইএসএফ-এর সঙ্গে যে বামফ্রন্টের ১৬ আনা জোট হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। শুধু শরিক নয়, আইএসএফ-এর চাপে সিপিএম-কেও আপস করতে হচ্ছে। পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে সিপিএম প্রার্থী করেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে। সেই আসনে ইতিমধ্যে আইএসএফ-ও প্রার্থী দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে সিপিএম আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। তবে দলীয় সূত্রে খবর, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে বড় কোনও বদল না-হলে নিরঞ্জনের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। যেহেতু এখনও মনোনয়ন জমা পড়েনি, ফলে আইনি কোনও প্রক্রিয়া নেই। কিন্তু প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে সিপিএম-কে পিছু হটতে হবে। যা নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম-এর অন্দরেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বিবৃতি দিয়ে বাম জোটের নির্বাচনী বোঝাপড়ার অঙ্ক স্পষ্ট করেছেন। সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তিনি বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির আসন বোঝাপড়ার অঙ্ক জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনী বোঝাপড়া অনুযায়ী বামফ্রন্ট ২৫২টি আসনে লড়বে বলে স্থির হয়েছে। এর মধ্যে সিপিএম ১৯৫টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টি, সিপিআই ১৬টি, আরএসপি ১৬টি আসনে লড়বে। এ ছাড়া আরসিপিআই এবং মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসনে লড়বে। এ অবস্থায় সহযোগী দলগুলির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যও বামফ্রন্টের সব শরিকের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তবে বুধবার মধ্যমগ্রামের প্রার্থী ঘোষণার সময় ফরওয়ার্ড ব্লক সন্দেহ প্রকাশ করেছে আইএসএফ-এর ভূমিকায়। তাদের দাবি, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাদের জানিয়েছিলেন, মধ্যমগ্রামে আইএসএফ লড়বে না। কিন্তু বামফ্রন্টের অনুরোধ উপেক্ষা করেই আইএসএফ মধ্যমগ্রামে প্রার্থী দিয়েছে বলে দাবি ফরওয়ার্ড ব্লকের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত