সমাজমাধ্যমের উপর কড়া নজর রেখেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ১১ হাজারের বেশি পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। রবিবার নতুন করে ফের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের বিধি মনে করিয়ে দেওয়া হল। কোনও ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা হলেই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে কমিশন।
রবিবার কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সমাজমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নৈতিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। না হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং আদর্শ আচরণবিধি অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। কোনও বিভ্রান্তিকর, বেআইনি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি পোস্টের বিরুদ্ধে তিন ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করা হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং প্রচারের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘‘কোনও এআই নির্মিত জিনিস প্রচারে ব্যবহার করা হলে তার গায়ে ‘এআই নির্মিত’ বলে উল্লেখ করে দিতে হবে।’’ ভোটারদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে বলেছে কমিশন।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাকি রাজ্যের সমাজমাধ্যমেও নজর রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভোট হচ্ছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরীতে। কমিশন জানিয়েছে, কোনও পোস্টে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে কি না, আইনশৃঙ্খলার অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, ভুয়ো তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি না, দেখা হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ ভোটঘোষণার পর থেকে এমন ১১ হাজারের বেশি পোস্ট সমাজমাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অনেক পোস্ট সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনও কোনও পোস্টের বিরুদ্ধে করা হয়েছে এফআইআর।
আরও পড়ুন:
জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোট সংক্রান্ত কিছু প্রদর্শন করা যায় না। সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে তা মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিবৃতি অনুযায়ী, যে কোনও নাগরিক, রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ জানাতে পারেন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে মোট ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৯টি অভিযোগ কমিশনের সেই ওয়েবসাইটে জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৯৬.০১ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১০০ মিনিটের মধ্যে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত