Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটঘোষণার পর থেকে ১১ হাজার পোস্ট চিহ্নিত হয়েছে! সমাজমাধ্যমের বিধি কী? ফের মনে করিয়ে দিল কমিশন

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাকি রাজ্যের সমাজমাধ্যমেও নজর রাখা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কোনও পোস্টে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে কি না, আইনশৃঙ্খলার অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৬
Election Commission reminds Social Media rules ahead of election in West Bengal

সমাজমাধ্যমের বিধি মনে করিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সমাজমাধ্যমের উপর কড়া নজর রেখেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ১১ হাজারের বেশি পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। রবিবার নতুন করে ফের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের বিধি মনে করিয়ে দেওয়া হল। কোনও ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা হলেই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে কমিশন।

রবিবার কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সমাজমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নৈতিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। না হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং‌ আদর্শ আচরণবিধি অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। কোনও বিভ্রান্তিকর, বেআইনি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি পোস্টের বিরুদ্ধে তিন ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করা হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং প্রচারের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘‘কোনও এআই নির্মিত জিনিস প্রচারে ব্যবহার করা হলে তার গায়ে ‘এআই নির্মিত’ বলে উল্লেখ করে দিতে হবে।’’ ভোটারদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে বলেছে কমিশন।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাকি রাজ্যের সমাজমাধ্যমেও নজর রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভোট হচ্ছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরীতে। কমিশন জানিয়েছে, কোনও পোস্টে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে কি না, আইনশৃঙ্খলার অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, ভুয়ো তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি না, দেখা হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ ভোটঘোষণার পর থেকে এমন ১১ হাজারের বেশি পোস্ট সমাজমাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অনেক পোস্ট সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনও কোনও পোস্টের বিরুদ্ধে করা হয়েছে এফআইআর।

Advertisement

জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোট সংক্রান্ত কিছু প্রদর্শন করা যায় না। সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে তা মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিবৃতি অনুযায়ী, যে কোনও নাগরিক, রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ জানাতে পারেন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে মোট ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৯টি অভিযোগ কমিশনের সেই ওয়েবসাইটে জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৯৬.০১ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১০০ মিনিটের মধ্যে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Social Media Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy