পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন এবং সেই সঙ্গে ছয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উপনির্বাচন রয়েছে। ওই ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে গত প্রায় এক মাসে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বেআইনি নগদ এবং সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। রাজ্য এবং কেন্দ্রের ২৪টির বেশি সংস্থা ওই সব সামগ্রী উদ্ধার করেছে। আর তার সঙ্গে জোর দেওয়া হয়েছে নজরদারিতে। বাড়ানো হয়েছে নাকা তল্লাশি। প্রার্থী বা ভোটারদের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
গত ১৫ মার্চ ১১টি রাজ্যে নির্বাচন এবং উপ-নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে কমিশন। ওই সময় থেকেই কার্যকর হয় আদর্শ নির্বাচনী বিধি। কমিশন জানিয়েছে, অবাধ এবং হিংসামুক্ত ভোট করানোই তাদের উদ্দেশ্য। সেই কারণে মঙ্গলবার ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং তার আশপাশের রাজ্যের পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্তার সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ওই রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইলেক্ট্রনিক সিজ়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে। ভোটের সময় কত বেআইনি জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়, তা ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাইজ় করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ভোটমুখী রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে ৪০৮.৮২ কোটি টাকার বেআইনি জিনিস, নগদ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে ১৭.৪৪ কোটি টাকা নগদ, ৩৭.৬৮ কোটি টাকার পানীয় (১৬.৩ লক্ষ লিটার), ১৬৭.৩৮ কোটি টাকার মাদক, ২৩ কোটি টাকার দামি ধাতু, ১৬৩.৩০ কোটি টাকার উপঢৌকন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটমুখী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় আচমকা নাকা তল্লাশি করার জন্য ৫,২০০টি পর্ক্ষবেক্ষক দল (স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম) নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা প্রার্থীরা অভিযোগ করলে ১০০ মিনিটের মধ্যে যাতে তা খতিয়ে দেখা হয়, সেজন্য ৫,১৭৩টি ফ্লায়িং স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।
আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে সি-ভিজিল মডিউল ব্যবহার করে ইসিআইএনইটি-তে অভিযোগ জানানো যাবে। প্রার্থী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই সেই অভিযোগ করতে পারবেন। ১৫ থেকে ২৫ মার্চ এই সি-ভিজিল অ্যাপে ৭০,৯৪৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকেই সে সব অভিযোগ এসেছে। ৭০,৮৩১টি অভিযোগ ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬৭,৮৯৯টি অভিযোগ জমা পড়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত