তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরোক্ষে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে সে বিষয়ে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, গত ২৫ মার্চ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস’ হাই স্কুলের মাঠে একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভায় তিনি সিআরপিএফ জওয়ানদের উদ্দেশে পরোক্ষ ভাবে হুঁশিয়ারি দেন এবং মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলেন। প্রয়োজনে গৃহস্থালির রান্নার সামগ্রী ব্যবহার করার কথাও উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামীণ এলাকায় কি তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ চালাতে পারেন? অন্য দিকে, সিআরপিএফ জওয়ানেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন, তবে তাঁরা আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কমিশনের মতে, ওই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দুপুরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মা-বোনেদের ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব দেন তিনি। যত ক্ষণ না ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে তত ক্ষণ হাতা-খুন্তি নিয়ে সেখানে পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার আশঙ্কা, ভোট লুট হতে পারে, কেউ ভয় দেখাতে পারে। তাই মা-বোনেদের কেউ ভয় দেখাতে এলে রান্না ঘরের নানা সামগ্রী নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছেন তিনি।
বুধবার সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বলেছিলেন, ‘‘মা-বোনেদের একটা দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। ছাত্র-যুবরা পাহারা দেবে ভোট মেশিন আর নির্বাচনী বুথ। মা-বোনেরা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন।’’ মহিলাদের তাঁর পরামর্শ, ভোটে সকাল থেকে নজর রেখে ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছোনো পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। দিল্লির লোকগুলি এসে ভোটে যাতে ছাপ্পা দিতে না পারে, তা দেখতে হবে। কেউ যদি ভয় দেখায় মা-বোনেরা ঘরে যা আছে তা নিয়ে বার হবেন। তিনি বলেন, ‘‘সকলে তো রান্নাবান্না করেন, আর বলার প্রয়োজন নেই।’’
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির কাজকর্ম, কমিশনের নির্দেশ, প্রস্তুতি নিয়ে ভোটে কারচুপি আশঙ্কার কথা বলে নানা অভিযোগ করতে শুরু করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরোক্ষে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠল। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।