গত কয়েক বছর ধরে হাওড়ার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পুর পরিষেবা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। প্রচারে বেরিয়ে বাসিন্দাদের থেকে এলাকার জঞ্জাল সাফাই, নিকাশি এবং রাস্তার আলো নিয়ে নানা অভিযোগ শুনতে হচ্ছে শাসকদলের প্রার্থীকে। এমনকি, অভিযোগ শুনতে হয়েছে রাজ্য সরকারের ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ নিয়েও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এ বার প্রাক্তন মেয়র পারিষদদের নিয়ে হাওড়া পুরসভার দ্বারস্থহলেন শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খোদ তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়। পুরসভার তরফে এলাকারপরিষেবা উন্নত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় গত সাত বছর ধরে প্রশাসকমণ্ডলী বা পুরকমিশনার ৫০টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব সামলেছেন। যার মধ্যে রয়েছে শিবপুর, উত্তর হাওড়া, মধ্য হাওড়া এবং দক্ষিণ হাওড়া— এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্র। শাসকদল তৃণমূলের তরফে বার বার পুরভোটের জন্য আবেদন করা হলেও তা না হওয়ায় এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে পুর পরিষেবা ঠিক মতো মেলে না বলে অভিযোগ।
জল জমা, জঞ্জাল অপসারণ, পানীয় জলের সমস্যা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়েবাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। তারই প্রভাব যে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে পড়তে পারে, তা মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অনেকে। তার মধ্যে পুরসভার ঠিকাদারদের থেকে তৃণমূলের একাংশের ‘কাটমানি’ নেওয়ার জুলুমে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।বিরোধীদের হাতে সেই অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পরিস্থিতি দেখে সোমবার শিবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন মেয়র পারিষদভাস্কর ভট্টাচার্য, দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়, ত্রিলোকেশ মণ্ডল-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব পুর কমিশনার প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেন। রানা বলেন, ‘‘প্রচারে বেরিয়ে শুধু বাসিন্দাদের থেকেই নয়,সহকর্মীদের থেকেও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হচ্ছিল। তার সমাধানেই পুর কমিশনারের কাছে গিয়েছিলাম।’’
তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, শহরের দীর্ঘমেয়াদি যে সব প্রকল্প চলছে চলুক। পাশাপাশি, শহরবাসীর জন্য জরুরি স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের দ্রুতরূপায়ণে তাঁরা পুর কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তৃণমূলের অন্য নেতাদের বক্তব্য, শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলেরই এক শ্রেণির তোলাবাজের জন্য পুরসভার কোনও দরপত্রে কেউ অংশগ্রহণকরতে পারতেন না, ঠিকাদারেরা কাজ করলে মোটা টাকা কাটমানি চাওয়া হত।
হাওড়ার পুর কমিশনার বলেন, ‘‘জঞ্জাল অপসারণ থেকে নিকাশি, সব কাজ পুরসভা তার আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও করার চেষ্টা করছে। ওঁদের জানানো হয়েছে, শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পুর পরিষেবার উন্নতির জন্য সব রকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)