Advertisement

নবান্ন অভিযান

ওয়েইসির দলের হাত ধরে লড়াই! বিধানসভা ভোটে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল হুমায়ুনের দল

হুমায়ুনের ছেড়ে আসা ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে পিরজাদা খোয়ায়েব আমিনকে। আবার রানিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসির হায়দরকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ২৩:২০
হুমায়ুন কবীর।

হুমায়ুন কবীর। — ফাইল চিত্র।

শেষ পর্যন্ত বাম বা আইএসএফ— কোনও শিবিরের সঙ্গে জোট হল না। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএমের হাত ধরে লড়াই করবে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। রবিবার দুপুরে দলের চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন। ১৪৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরেও প্রার্থী দিয়েছে তাঁর দল। হুমায়ুন লড়ছেন মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্র রেজিনগর ও নওদা থেকে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, বিজেপি-বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে হয়তো বাম বা আইএসএফের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে হুমায়ুনের দল। কিন্তু রবিবার সেই জল্পনায় জল পড়ল। ওয়েইসির তরফে জানানো হল, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর দলের সঙ্গে জোট গড়ে বিধানসভা ভোটে লড়বে হুমায়ুনের দল। আগামী বুধবার এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

হুমায়ুনের ছেড়ে আসা ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে পিরজাদা খোয়ায়েব আমিনকে। আবার রানিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসির হায়দরকে। নন্দীগ্রামে শহিদুল হক এবং ভবানীপুরে পুনম বেগমকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। তবে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর নিয়ে এখনও জল্পনা রয়েছে। তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া প্রবীণ নেতা আবদুল করিম চৌধুরী হুমায়ুনের শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে কানাঘুষো ছড়িয়েছে। হুমায়ুনের দলের একটা অংশ মনে করছে, সেই কারণেই ইসলামপুরে এখনও কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

দলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ কলকাতা থেকে বাকি আসনগুলির প্রার্থীর নাম জানানো হবে। ২৮ মার্চ প্রকাশিত হবে নির্বাচনী ইস্তাহার। হুমায়ুন কবীর জানান, সুস্বাস্থ্য, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা— এই বিষয়গুলিকেই তাঁদের দল নির্বাচনে মূল হাতিয়ার করছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Humayun Kabir
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy