ভোট শেষ হলে বাড়ি চলে গেলে চলবে না। ‘লোডশেডিং’ করানো হতে পারে। রবিবার সন্ধ্যায় রুদ্ধদ্বার কর্মিসভায় এই ভাষাতেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর ওই সভায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না। বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের একটি সূত্র বলছে, ভবানীপুর কেন্দ্রের দলীয় কর্মীদের বার্তা দিতে গিয়ে নন্দীগ্রাম বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন দলনেত্রী। ২০২১ সালে ভোটে নন্দীগ্রামে মমতার পরাজয়ের পর তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, গণনার সময় লোডশেডিং করে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু।
ভবানীপুরে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। প্রচারের সলতে পাকানোর কাজ রবিবার শুরু করলেন তৃণমূলনেত্রী। চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে তিনি বার্তা দিয়েছেন কর্মীদের। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন। তিনি জানান, ভোট শেষ হলেই কর্মীরা যেন বাড়ি না চলে যান। তাঁর আশঙ্কা, ‘লোডশেডিং’ করে দেওয়া হতে পারে। স্ট্রং রুমে বিশেষ নজর দিতেও বলেছেন বলেও খবর।
সূত্রের খবর, রবিবাবের কর্মিসভায় মমতা ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর সংযোগের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু ভবানীপুর নয়, গোটা রাজ্যের মানুষ তাঁকে সেখানে দেখেন। তাঁরা জানেন, তিনি সেখানকারই মানুষ। সূত্রের খবর, তিনি জানান, বাড়ি বদলের বিষয়ে কথা হলেও তিনি তা করেননি। মা তাঁকে বাড়ি বদল করতে দেননি। ভবানীপুরে যে সব ধর্মের, ভাষার মানুষের বাস, সে কথাও বলেছেন মমতা। তিনি জানান, সকলে তাঁকে উৎসবে ডাকেন। তিনি সেখানে যোগ দিতে যান। সকলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
এর পরেই বিজেপি-র দিকে মমতা আঙুল তোলেন। তিনি জানান, ওই দল একটি মন্দির করলেও প্রেসিডেন্টকে সেখানে যেতে দেয়নি। তিনি আদিবাসী বলে এমন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। সূত্রের খবর, তিনি কটাক্ষ করে জানান, বিজেপি গ্যাস দিতে পারে না। নির্বাচনে ‘ক্যাশ’ দেয়। তার পরেই তিনি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানোর কথা বলেছেন। এ-ও অভিযোগ করেন, ‘জয় বাংলা’ বলার জন্য দলের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলায় জিতে তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ দিল্লিতে যাওয়া বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তার পরে যাঁদের প্রয়োজন হবে, দলের তরফে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান মমতা। এমনটাই বলছে সূত্র। কর্মিসভা থেকে ফের এক বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন মমতা। সূত্রের খবর, তিনি জানান, রাজ্য সরকারের ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। ফের বলেন, কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায়িত্ব নিতে হবে প্রধানমন্ত্রী মোদী-‘ভ্যানিশ কুমার’-কে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দুর কাছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা। তার পরে অভিযোগ করেছিলেন, গণনার সময় লোডশেডিং করিয়ে দিয়ে কারচুপি হয়েছিল। ফল ঘোষণার পরেই মমতা বলেছিলেন, ‘‘নন্দীগ্রামের মানুষের রায় মেনে নিচ্ছি। কিন্তু ওখানে ভোট লুট হয়েছে। আদালতে যাব আমরা।’’ পরে মমতা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে এলেও নন্দীগ্রামের হার নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি।
এ নিয়ে আদালতেও যায় তৃণমূল। পুনর্গণনার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল মূলত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। প্রথমে ওই মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে যায়। বিচারপতি চন্দের সঙ্গে বিজেপির পূর্ব যোগ রয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ‘নিরপেক্ষ’ বিচারের জন্য ওই বেঞ্চ থেকে মামলা সরানোর আর্জি জানান মমতা। তাঁর সেই আর্জি মেনে মামলা থেকে অব্যাহতি নেন বিচারপতি চন্দ। মামলাটি ওঠে বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে।
আরও পড়ুন:
যদিও কলকাতা হাই কোর্ট থেকে নন্দীগ্রামের ভোটগণনা মামলা অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান শুভেন্দু। কিন্তু বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ শুভেন্দুর সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, ওই মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরিত করা হলে হাই কোর্টের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে। সেই মামলা হাই কোর্টে এখনও বিচারাধীন। এ বার কর্মীদের বার্তা দিতে গিয়ে আবার সেই নন্দীগ্রাম বিতর্কের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন তৃণমূল নেত্রী, এমনটাই বলছে সূত্র।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-তে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ৪৭ হাজার ৯৪ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। পাশাপাশি বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার ১৫৫ জন। গত লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও পাঁচটি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। এই প্রেক্ষাপটে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু।
এই আবহে মমতার কর্মীদের দেওয়া বার্তা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছর ধরে প্রচার হল লোডশেডিংয়ের জয়। যে ব্যবধানে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু জয়ী হন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দেখা গেল, তার অনেক বেশি ভোটে তমলুক কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ প্রসঙ্গত, তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। শমীক আরও বলেন, ‘‘পরাজিতের আর্তনাদ। গত নির্বাচনে যা করেছেন, সেই কাজ এ বার করতে পারবেন না। সেই ভয় তাড়া করছে। সু্প্রিম কোর্টের দরবারে গিয়েছেন, মানুষের দরবারে গিয়েছেন। প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।’’
সূত্রের খবর, রবিবাবের কর্মিসভায় মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর সংযোগের কথা। তিনি জানিয়েছেন, শুধু ভবানীপুর নয়, গোটা রাজ্যের মানুষ তাঁকে সেখানে দেখেন। তাঁরা জানেন, তিনি সেখানকার মানুষ। সূত্রের খবর, তিনি জানান, তাঁর বাড়ি বদলের বিষয়ে কথা হলেও তিনি তা করেননি। তাঁর মা তাঁকে বাড়ি বদল করতে দেননি। ভবানীপুরে যে সব ধর্মের, ভাষার মানুষের বাস, সে কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তিনি জানান, সকলে তাঁকে উৎসবে ডাকেন। তিনি সেখানে যোগ দিতে যান। সকলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
এর পরেই বিজেপির দিকে মমতা আঙুল তুলেছেন বলে খবর। তিনি জানান, ওই দল একটি মন্দির করলেও প্রেসিডেন্টকে সেখানে যেতে দেয়নি। তিনি আদিবাসী বলে এমন করা হয়েছে বলেও জানান মমতা। সূত্রের খবর, তিনি কটাক্ষ করে জানান, বিজেপি গ্যাস দিতে পারে না। নির্বাচনে ‘ক্যাশ’ দে। তার পরেই তিনি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানোর কথা বলেছেন বলে খবর। এ-ও জানিয়েছেন, ‘জয় বাংলা’ বলার জন্য দলের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলায় জিতে তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ দিল্লিতে যাওয়া বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তারপরে যাঁদের প্রয়োজন হবে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান মমতা। এমনটাই বলছে সূত্রে। এর পরেই আঙুল তোলেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে। সূত্রের খবর, তিনি জানান, রাজ্য সরকারের ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায়িত্ব নিতে হবে প্রধানমন্ত্রী মোদী-‘ভ্যানিশ কুমার’-কে।