নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে সোমবার সন্ধ্যায়। তারা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত যত বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে।
সোমবার বিকেলের মধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে তালিকা পৌঁছে যাবে। সন্ধ্যা থেকে অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অতিরিক্ত তালিকা দেখতে পাবেন ভোটারেরা। শুক্রবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৪০ হাজার বুথের তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সোমবার বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে।
সিইও দফতরের একটি সূত্র বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। সবটাই আইন মেনে হচ্ছে। তাই কমিশন মনে করছে, তালিকা প্রকাশের পরে গন্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। ইতিমধ্যে সেই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন যে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে বিবেচনাধীন ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। সেই নামের নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৭০০ জনের বেশি বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ওই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন।
রবিবার রাজ্যের সিইও দফতরে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হয়। জয়েন্ট ফোর্স ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। ওই বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে আলোচনা হয়। কোথায়, কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, বাহিনী কী ভাবে কাজ করবে তার পরিকল্পনা হয়েছে বলে খবর। বৈঠকে ছিলেন রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার, বিশেষ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্র, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসার শলভ মাথুর এবং গৌরব শর্মা।
আরও পড়ুন:
-
ভোটার তালিকার পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হবে সোমবার! নাম বাদ পড়লে আবেদন করা যাবে, ট্রাইবুনাল গড়ে ফেলল হাই কোর্ট
-
ভোটের নজরদারি কেমন হবে? থানায় থানায় গিয়ে কমিশনের নির্দেশ পৌঁছে দিলেন কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয়
-
কমিউনিজ়মেও আছেন, ধর্মেও আছেন! ভোটের প্রচারে বেরিয়ে যজ্ঞে ঘি ঢাললেন সিপিএমের প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
সোমবার তালিকা বার হওয়ার পরে আইনশৃঙ্খলার দিকে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নজর রাখতে বলেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। অন্য দিকে, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেল ৪টের সময় দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ওই বৈঠক করবে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে ওই বৈঠক চলবে। কমিশনার ডেপুটি কমিশনার মণীশ গর্গের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হবে। এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, পবনকুমার শর্মা, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ অন্য আধিকারিকেরা।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার হবে ওই বৈঠক। কমিশন জানিয়েছে, বৈঠকের বিষয় হল ভোটের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মী নিয়োগ। ওই বিষয়ে প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে যৌথ ভাবে ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ তৈরি করতে হবে। কমিশন সব জেলার তথ্য খতিয়ে দেখবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৭:১৭
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ -
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত
-
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক