রাজ্যে ভোটের সময়ে কী ভাবে নজরদারি চলবে, তা পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার। এ বার সেই নির্দেশ তৃণমূলস্তরের পুলিশকর্মীদের কাছে পৌঁছোনোর কাজ শুরু করল কলকাতা পুলিশ। রবিবার সেই কাজে ভাঙড় থানায় গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। তার পরে তিনি হেয়ার স্ট্রিট থানায় যান। সেখান থেকে বেরিয়ে কমিশনার জানান, কমিশনের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন সিনিয়র অফিসারেরা।
পশ্চিমবঙ্গে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোট। ভোটে কী ভাবে নজরদারি চালানো হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়েছে কমিশন। সেই বিষয়টি কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা থানার সকল পুলিশকর্মীর কাছে যাতে পৌঁছোয়, এ বার সেই নিয়ে উদ্যোগী হলেন নতুন কমিশনার নন্দ। রবিবার কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা দু’টি থানায় যান তিনি। হেয়ার স্ট্রিট থানা থেকে বেরিয়ে নন্দ বলেন, ‘‘থানায় এসে পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথা বলছি। ব্রিফিং করছি। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, কী ভাবে ভোট হবে। ছ’টি লক্ষ্য (অবজেকটিভ) রয়েছে।’’ কী সেই লক্ষ্য, তা-ও জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। তিনি বলেন, ‘‘কমিশন জানিয়েছে, যেখানে ভোট হবে, সেখানে হিংসা হবে না, হুমকি দেওয়া যাবে না। ছাপ্পা হবে না। বুথ জ্যামিং হবে না। সব থানাকে সিনিয়র অফিসার ব্রিফিং করছেন। লক্ষ্য পূরণ করব।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যে তদারকি শুরু হয়েছে। থানায় সর্বস্তরের কর্মীদের বিষয়টি জানাচ্ছেন সিনিয়র অফিসারেরা।
আরও পড়ুন:
এর পরেই অজয়কে আরজি করে লিফ্ট-কাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলনে, ‘‘শুনেছি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং মৃতের স্ত্রী যে বয়ান দিয়েছেন, সেটাই ফার্স্ট হ্যান্ড ইনফরমেশন।’’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, লিফ্টে সম্ভবত ‘ম্যালফাংশন’ বা ত্রুটি হয়েছিল।
গত ১৬ মার্চ কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় আইপিএস নন্দকে। তিনি ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। আসানসোল-দুর্গাপুরের কমিশনার হিসাবেও কাজ করেছেন একসময়। ছিলেন কলকাতা পুলিশেও। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর প্রথম আইজি নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এ বার কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা এলাকায় ভোট করানো নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৭:১৭
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ -
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত
-
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক