ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। এ বার ভোটের প্রচার শুরুর আগে সলতে পাকানোর কাজ শুরু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কর্মীদের নিয়ে এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রার্থী মমতা তো বটেই, হাজির থাকবেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস কুমার, মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ ভবানীপুরের আরও সাত জন কাউন্সিলর। কর্মী সম্মেলনে সব বুথের কর্মীদেরও হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য, ভোটের আগে মমতার ভবানীপুরে করা কাজের ফিরিস্তি বুথে বুথে পৌঁছে দেওয়া।
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-তে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৭ হাজার ৯৪ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বর্তমানে ভবানীপুর বিধানসভা বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার ১৫৫ জন। সেই পরিস্থিতিতে কালীঘাটের বাসভবনে দলের বিএলএ এবং বিএলএ-২-দের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন মমতা। আর অহীন্দ্র মঞ্চের কর্মী সম্মেলনেও ওই সব দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলএ এবং বিএলএ-২-কে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও পাঁচটি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। তাই ৬৩, ৭০,৭১,৭২,৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য সভাপতিকে। আর ৭৪,৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র ফিরহাদ। তা সত্ত্বেও এই নির্বাচনে কোন নেতার কী দায়িত্ব হবে, কর্মিসভায় সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন মমতা।
আরও পড়ুন:
যদিও ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’ স্লোগানকে হাতিয়ার করে ভবানীপুরের ঘরে ঘরে গিয়ে মমতার উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি দিতে কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি এ বার মমতাকে কঠিন লড়াই দিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে ভবানীপুরে প্রার্থী করেছে। তাই এই লড়াইয়ে যাতে কোনও রকম আত্মতুষ্টি কাজ না করে, সেই বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে শুরু করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই ভবানীপুরে শেষ দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট থাকলেও, রবিবারের কর্মিসভা থেকে কী ভাবে মাসব্যাপী প্রচার চালাবে তৃণমূল, সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকবে তৃণমূলের সর্ব্বোচ্চ নেত্রীর, এমনটাই দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর।
কলকাতা পুরসভার ৭১ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলের সভাপতি বাবুল সিংহ বলেন, ‘‘দিদির নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আমরা ভবানীপুরে ভোটের কাজে নেমে পড়েছি। রবিবার কর্মিসভায় মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কী বার্তা দেন, সে দিকেই আমরা তাকিয়ে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২১:০৪
অভিষেকের বাড়ির সামনে ‘চোর চোর’ স্লোগান! মোতায়েন পুলিশকর্মীরা বললেন, ‘ওরা তো বাইকে চড়ে যাচ্ছে’ -
১৮:২৩
সিসিভিটি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক -
১৫:৫৯
কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে? বললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা -
১৫:১৯
হিংসা রুখতে রাজনীতির রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ করুন! মুখ্যসচিবকে বার্তা শমীকের, বিধাননগরে বৈঠকে বিজেপি -
১৫:০৬
‘ক্ষমতায় এলে একদিন যেতে হয়’! ভোটে হারের পরদিন বিধানসভায় অফিস ছাড়ার সময় বললেন বিদায়ী স্পিকার বিমান