(বাঁ দিকে) নির্বাচনী ইস্তাহার হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।
‘‘মোদীজির মিছিল থেকে শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা হল। আগের বার অমিত শাহের মিছিল থেকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হল। গুন্ডামি। মানুষের ব্রেন এআই দিয়ে দখল করে ভাল কাজে না লাগিয়ে.. করছে লুট, বলছে ঝুট। চিন্তার কোনও কারণ নেই বলব কর্মীদের। ইদের পরে প্রচার শুরু হবে। সবার জন্য দরকার বাংলায় তৃণমূলের সরকার। ’’
‘‘আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করি না। বাংলার মানুষের যাতে অধিকার রক্ষা হয়। তাই বলছি। এ বার লড়াই। এটা বিজেপির স্বৈরাচারী লড়াই। সামনাসামনি লড়তে না পেরে পেছনের লোক দিয়ে করাচ্ছে। সব প্রকাশ্যে। আমি চিঠি দিয়েছি কেন জানেন, এভিডেন্স করে রাখছি। চিরকাল থাকবে। কাজে লাগবে।’’
‘‘কমিশনের অন্যায়বিচার চলছে। তারাই সব নিয়ন্ত্রণ করছে। ভারত সরকার, অমিত শাহ, মোদীর অফিস যাকে পারছে ফোন করে হুমকি দিচ্ছে। বলছে ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠাও এখানে। তারা বুথের ভিতরে গিয়ে ছাপ্পা দেবে। পরিকল্পনা অনেক। ইভিএম যন্ত্র থেকে, মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া, বাইরে থেকে গুন্ডা পাঠিয়ে দখল করেছে। যাতে পুলিশ ধরতে না পারে, তাই কতগুলি লোককে আগমন করিয়েছে। বেছে বেছে অবজার্ভার। এত লোককে খাওয়াবে কে। আমাদের সব গ্যাস নিয়ে নেবে। লোকে এসপিজি পাবে না। ১০ লক্ষ পুলিশ, এত অবজার্ভার রাখব কোথায়। হোটেলে রাখবে, টাকা কে দেবে? পিছনে পুলিশ ঘুরবে, এজেন্সির ঘুরবে, বর্ডার থেকে টাকা আমদানি করবে। বিজেপির সব মুখ্যমন্ত্রী এখানে বসে থআকবে। তারা সব খেয়ে নেবে। এদের জন্য অনেক রান্নার গ্যাস লাগবে।’’
‘এরা বকধার্মিক। ধর্মের নামে বাতুলতা করে। এদের ধিক্কার জানানো ছাড়া ভাষা নেই। কমিশন থেকে বিচারবিভাগ, রাস্তা, মিছইল, সব জায়গায় ঠকঠক করেছি। আবেদন পৌঁছে দিয়েছি। কলকাতা থেকে দিল্লি। ভোট দেওয়া গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় অধিকার। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বলে কিছু ছিল না রুলসে। ৫৮ লক্ষ আগেই বাদ দিয়েছে। পার্টি অফিস থেকে ঠিক করেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেবে। সংখ্যাটা বলি, ৫৮ লক্ষ প্রথম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। নোম্যাপিং আছে, মহিলা রয়েছে, যাঁরা বাডি় বদলেছে। ২২ লক্ষ করতে ২০ দিন লাগলে ভোটের আগে শেষ হবে তো?’’
‘‘ইদের পর থেকে প্রচার শুরু হবে। এসআইআরের যে তালিকা আজ প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, আজও হয়নি। এই করে দেরি হচ্ছে। শুনেছি, ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০ লক্ষ বাদ গেছে। শুনেছি। বেশির ভাগ বাদ গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর থেকে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে। হিন্দু, রাজবংশী, মতুয়াদের অনেকের নাম বাদ। ’’
‘‘প্রবীণদের যত্ন। অনেক সময় তাঁদের সন্তানেরা বাইরে চলে যান। তাঁদের দেখার কেউ থাকেন না। তাই প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে! এটাও আমাদের অঙ্গীকার। সাতটি নতুন জেলা করেছি। আগামী দিনেও করব। নতুন ব্লক, সাবডিভিশন, পুরসভা তৈরি হবে। যাতে মানুষ ঘরের সামনে পরিষেবা পেতে পারে।’’ ইস্তাহার প্রকাশ করলেন মমতা। তিনি জানান, ছ’টি ভাষায় এটা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ভাষায় করা হবে কি না, দেখা হবে।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
‘‘দুয়ারে শিবির হবে। দুয়ারে স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্যসাথী আছে। এমপি ল্যাড থেকে ২৫০-৩০০ অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছে। পরে আরও দিয়েছি। বাংলার শিক্ষায়তনকে টার্গেট করেছি। বাজেটে পাশ হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাশ করেছি। কয়েক হাজার স্কুলের আধুনিকীকরণ হবে। ই-লার্নিং হবে। আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে। শিক্ষক নিয়োগ করতে চাই। বিপক্ষেরা কোর্টে কেস করে দেয়। তাতে ভাগ্য ঝুলে রইল শিকেয়। বোঝে না, মানুষ কষ্ট পায়। না হলে এ ভাবে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের ঝুলে থাকছে। শিক্ষার অধিকার বাংলার সবার।’’
‘‘বাজেটে কৃষি কৃষকের হাসি। ঘর সকলকে দেওয়া হবে। এ বার দুয়ারে চিকিৎসা করব। আগে দুয়ারে সরকার যে করেছি, তা চলবে। আমার পাড়া আমার সমাধানে বুথে বুথে আট হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। সেই কাজগুলি যারা করছিল, তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছে, যাতে করতে না পারে। কাজ তো হবেই।’’
‘‘কৃষি আপনারা জানেন। আলু নষ্ট হলে বিমা করে দিয়েছি। চাল সবটাই সংগ্রহ করে নিই। আগের বার ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন সংগ্রহ করে নিয়েছি। এ বারেও হচ্ছে, হবে। সময় লাগে। আলুও সংগ্রহ করতে শুরু করেছি। কেউ বাইরে বিক্রি করতে চাইলেও আপত্তি নেই। এখন ডিম ৯০ শতাংশ আমরা উৎপাদন করি। পেঁয়াজ আগে বাইরে থেকে আসত। এখন আমরা উৎপাদন করি। ইলিশের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হত। ২০১৩ সালে রিসার্চ সেন্টার করেছিলাম। এখন বাংলা ইলিশে ভাসে।’’
‘‘জঙ্গলসুন্দরী, কর্মনগরী রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। শালবনিতে জিন্দলরা আগে করেছিল বিনিয়োগ। আবার হচ্ছে। ম্যাঙ্গালোররে কোচ এখানে হচ্ছে। ওয়াগন থেকে ইঞ্জিন, সব এখানে তৈরি হচ্ছে। জাহাজ কারখানাও হচ্ছে। এমএসএমই-তেও আমরা এক নম্বরে। এখান থেকে চামড়ার ব্যাগ বাইরে রফতানি হয়। ২০ লক্ষ সেল্ফহেল্প গ্রুপ আছে। যাঁরা গ্রামে জিনিস তৈরি করে, কিন্তু বিক্রির জায়গা পায় না, তাঁদের ব্যবস্থা করেছি।’’
‘‘যাঁরা চাষী, ক্ষেতমজুর, মহিলা, সেলফ হেলপ গ্রুপের সকলে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন। এটা বড় বিষয়। বাণিজ্যের কাণ্ডারি, বাংলাই দিশারী। কয়েক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প এসেছে। দেউচা পচামি থেকে সিমেন্টের হাব, চামড়ার হাব, বিদ্যুতের হাব হয়েছে। এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। দেউচা পচামি হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। দাম কমবে।’’
‘‘দেশের দারিদ্র্যসীমার উপরে নীচে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এখানে সেই সংখ্যা কমেছে। ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে গিয়েছে।’’
‘‘এক কোটি যুবকদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। যাতা বৃত্তি পাচ্ছেন, তারাও পাবেন ভাতা। মেধাশ্রী, যুবশ্রী, মেধাশ্রী— সেগুলি পাবেন। পড়াশোনা করার বৃত্তি পাবেন। যত দিন চাকরি না পাচ্ছেন, তত দিন এই ভাতা দেব। ২ কোটি ছেলে-মেয়েদের চাকরি দিয়েছি। মোদী সরকার বলেছিল ২ কোটি চাকরি দেবে। ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে ৪০ শতাংশ (জাতীয় গড়)। এখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে।’’
‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার বৃদ্ধি করেছি। বলেছি, সারা জীবন পাবে। যদি কেউ বলে, করব, তারা ভোটের সময় বলবে করব, তার পরে করব না। আমরা করে দিয়েছি। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার টাকা। তফসিলি জাতি, জনজতিরা বার্ষিক পাচ্ছেন ২০,৪০০।’’
‘‘বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিছু বাকি আছে। সমীক্ষা চলছে। অনেকে মারা যান, সেটা দেখতে হবে, বাকিটা সময়মতো করে দেব। সংক্ষেপে অঙ্গীকার বলছি, সবই করে দিয়েছি।’’
‘‘আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা, যা বলি, তাই করে দেখাই। আর কোনও উন্নয়ন বাকি রয়েছে বলে মনে হয় না। ১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি দিয়েছি। টাকা বন্ধ করা সত্ত্বেও। ক্ষমতায় যখন আসি, পানীয় জল যেত ২ লক্ষ বাড়িতে। এখন এক কোটি বাড়িতে যায়। আগামী দু’-এক বছরে চাইব, সকলের বাড়িতে পৌঁছে যাক পানীয় জল। এটা অঙ্গীকার।’’
‘‘হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন সকলের কথা বলছি। এই অত্যাচারী মোদীর সরকার, এজেন্সি দিয়ে মানুষকে লুটের সরকার, কৃষক-বিরোধী সরকার, খুব শীঘ্র চলে যাবে। রাখে কৃষ্ণ মারে কে? সব ধর্মের মানুষকে শুভেচ্ছা। গুণ্ডামির বিরুদ্ধে, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে,যা ইচ্ছা করছে, সংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছে এরা। সকালে বলছে, কোনটা বেরবে, কোনটা নয়। মানুষ জিতবে।’’
‘‘বাংলা যদি বাঁচাতে হয়, সব মানুষ এক সঙ্গে থাকতে হলে, শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষা করতে হলে বিজেপি-কে এমন শিক্ষা দিন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভয় দেখালে শুনবেন না। টাকার প্রলোভনে পা দেবেন না। আইএএস, আইপিএস-দের বদলেছে, বর্ডার থেকে টাকা ঢোকাবে বলে, বন্দুক, মাফিয়া টাকা ঢোকাচ্ছে। হিংসা করার চক্রান্ত করছে। জোর করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে ইতিমধ্যে। মুখে বলছে না। করেছে।বাংলার মানুষকে আঘাত করেল প্রত্যাঘ্যাত করতে জানে।’’
‘‘বাংলার ভোটে লড়ছি, লড়ব। আমি এখনও মনে করি তৃণমূল কর্মীরা গণতন্ত্রে সবসময়, ভোটের সময়ে আমাদের যোদ্ধা। চার মাস বিএলএ-রা কী ভাবে কাজ করেছেন, দেখেছেন, তাঁরা আমাদের সম্পদ। তৃণমূলকে সমর্থন করে জোটবদ্ধ হোন। অন্য দিকে তাকানোর সময় নেই। ’’
‘‘এ দেশে এখন আইন, সংবিধান নেই। মানুষ কার কাছে বিচার পাবে? বিচারের জায়গাগুলি কিনে নিয়েছে। হয় জুজুর ভয়ে, নয় লোভ! এই ২টো জিনিস দেশে কাজ করছে। মোদীর হাত থেকে দেশ উদ্ধার করা আমাদের প্রায়োরিটি।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy