নবাব মিরজাফরের বংশধরদের অনেকের নামই ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটার তালিকা থেকে। তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। পরে যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তাঁদের নাম নেই। জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। নবাব পরিবারের যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ট্রাইবুনালের আবেদনের বিষয়ে আমরা সহায়তা করব।’’ নবাব ওয়াসেফ আলি মির্জার দৌহিত্র এবং ছোটে নবাব বলে পরিচিত সৈয়দ রেজা আলি মির্জা আজ, শনিবার জেলাশাসকের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে দেখা করতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সৈয়দ রেজা আলি মির্জার ছেলে সৈয়দ ফাহিম মির্জা মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘‘আমার দশম পূর্বপুরুষ হলেন নবাব মিরজাফর। আমাদের পূর্বপুরুষ অন্তত ২৮৬ বছর ধরে মুর্শিদাবাদ শহরের কেল্লা নিজামতে বসবাস করছেন। আর আমাদেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হল!’’ তাঁর দাবি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭০০ ভোটারের মধ্যে ৩৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এই ৩৮৬ জনের মধ্যে ১০০ জনের উপরে নবাব পরিবারের সদস্য।
কেল্লা নিজামত এলাকা ছাড়াও, আশপাশে নবাব পরিবারের হাজার তিনেক সদস্যের বাস। তাঁদের মধ্যে হাজার দুয়েক ভোটার। সূত্রের খবর, এ বারের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে অন্তত তিনশো জনের।
মুর্শিদাবাদের নবাবি পরিবারের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করা কলেজ শিক্ষক ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘পলাশির যুদ্ধের পরে সুবে বাংলার নবাব হন মিরজাফর। দেশ ভাগের সময় এই পরিবার মুর্শিদাবাদে থেকে গিয়েছিলেন। আজও এঁদের কাছে রয়েছে কয়েকশো বছরের বংশ তালিকা-সহ অন্য প্রামাণ্য নথি।’’
মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহরায় বলেন, ‘‘শেষ নবাবের নাতি তথা ছোটে নবাব ও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যর নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেবে না তাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।’’ বিজেপির অন্যতম রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের দাবি, ‘‘বুথ স্তরের আধিকারিকেরা ভোটার তালিকার কাজ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশ তৃণমূলের লোক। ফলে, প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার দায় তৃণমূলের।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)