পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ব্যয়সঙ্কোচের পথেই আপাতত হাঁটবে পাকিস্তান। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহবাজ় শরিফ সরকার। অর্থনৈতিক বোঝা কমাতে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত পাকিস্তান খরচের বহরে, তেলের ব্যবহারে লাগাম পরিয়েই রাখবে। এমনটাই জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ডন’। দিন দুয়েক আগে দেশবাসীকে মেপে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পেট্রল, ডিজ়েল খরচ কমিয়ে আপাতত সোনা কিনতেও বারণ করেছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরানও। তার জেরে অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে ইরান। তেল নিয়ে জাহাজগুলির যাতায়াত বাধাপ্রাপ্ত হয়। তার প্রভাবেই জ্বালানির সঙ্কট দেখা দেয় বিভিন্ন দেশে। পাকিস্তানও সঙ্কটের মুখে পড়ে ব্যয়সঙ্কোচের পথে হাঁটে। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করে পাকিস্তান সরকার। বিমানসংস্থাগুলিও ভাড়া বৃদ্ধি করে। ব্যয়সঙ্কোচের জন্য যে সব পদক্ষেপ করেছিল শাহবাজ় সরকার, এ বার সেগুলি ১৩ জুন পর্যন্ত মেনে চলতে হবে দেশবাসীকে।
আরও পড়ুন:
কী কী পদক্ষেপ করেছিল পাকিস্তানের সরকার? সরকারি এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িতে পেট্রোলে যে ভর্তুকি দিত, তা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন বা জাতীয় স্বার্থ ব্যতীত মন্ত্রী, সরকারি কর্তাদের বিদেশ ভ্রমণও বন্ধ করেছে পাকিস্তান। ওই পদক্ষেপের অংশ হিসাবে, সরকার ঘোষণা করেছিল যে, স্কুলগুলি আগামী ১৫ দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হবে অনলাইন ক্লাস এবং সরকারি দফতরগুলি সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। যে দিনগুলিতে সরকারি দফতরগুলি খোলা থাকবে, সে দিনগুলি ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করবেন। শাহবাজ় সরকারের সেই পদক্ষেপ ১৩ জুন পর্যন্ত মেনে চলতে হবে পাকিস্তানবাসীকে।