Advertisement
E-Paper

আমেরিকার হামলা থেকে বাঁচতে ইরান যুদ্ধবিমান লুকিয়েছিল পাকিস্তানে! মধ্যস্থতাকারী শরিফ সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

আমেরিকার এক প্রশাসনিক কর্তার দাবি, আফগানিস্তানেও দু’টি বিমান রেখে দিয়েছিল ইরান। তবে সেগুলি যুদ্ধবিমান ছিল কি না, জানা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৮:৩৭
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান বিমান ঘাঁটি।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান বিমান ঘাঁটি। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের যুদ্ধবিমান নিজেদের ঘাঁটিতে রাখতে দিয়েছিল পাকিস্তান। আমেরিকার এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছে সিবিএস নিউজ়। ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতের আবহে নিজেকে বার বার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছে পাকিস্তান। শাহবাজ় শরিফ সরকার দাবি করেছে, তারা নিরপেক্ষ। সেই দেশে মুখোমুখি বসেছিল দুই পক্ষ। এর মধ্যেই ওই সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আমেরিকার হামলা থেকে বাঁচতে ইরানের যুদ্ধবিমানকে ‘আশ্রয়’ দিয়েছিল পাকিস্তান। সূত্রের খবর, রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান বায়ুসেনা ঘাঁটিতে রাখা হয়েছিল ইরানের সে সব যুদ্ধবিমান। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আমেরিকা।

আমেরিকার এক সরকারি কর্তার দাবি, এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান রেখেছিল ইরান। যুদ্ধের কিছু সরঞ্জামও রেখে দিয়েছিল তারা। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের ওই ঘাঁটিতে ছিল ইরানের বায়ুসেনার আরসি-১৩০ বিমান। ওই বিমানে চেপে নজরদারি চালায় সেনা। নুর খান ঘাঁটিতে ছিল ইরানের লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস। পণ্য পরিবহণের জন্য ওই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। ওই মার্কিন আধিকারিকের দাবি, আমেরিকার হামলার হাত থেকে নিজেদের বাকি যুদ্ধবিমান বাঁচাতেই পাকিস্তানে সেগুলি রেখে দিয়েছিল ইরান।

এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমেরিকার সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘এই রিপোর্ট সত্য হলে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত।’’ তিনি আরও জানান, ইজ়রায়েলকে নিয়ে শুরুর দিকে পাকিস্তানের সামরিক আধিকারিকেরা যে মন্তব্য করেছিলেন, তার পরে এই রিপোর্ট সত্যি হলে তিনি বিস্মিত হবেন না।

আমেরিকার এক প্রশাসনিক কর্তার দাবি, আফগানিস্তানেও দু’টি বিমান রেখে দিয়েছিল ইরান। তবে সেগুলি যুদ্ধবিমান ছিল কি না, জানা যায়নি।

সিবিএসের প্রতিবেদনে যা লেখা হয়েছে, তা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। তারা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, নুর খান ঘাঁটি লোকালয়ের মাঝে অবস্থিত। সেখানে ইরানের বিমান রাখা হলে সেই খবর এত দিন চাপা থাকত না। আফগানিস্তানের অসামরিক বিমান মন্ত্রকের এক আধিকারিক যদিও জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর আগে ইরানের মাহান এয়ারওয়েজের একটি বিমান কাবুলের বিমানবন্দরে পার্ক করা হয়েছিল। ইরান আকাশপথ বন্ধ করার পরে ওই বিমান কাবুলেই দাঁড়িয়েছিল। তিনি আরও জানান, মার্চে পাকিস্তান যখন কাবুলে বিমানহানা দেয়, তখন ইরানের সেই বিমান হেরাট বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ ছিল, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে আফগানিস্তান। সেই অভিযোগ তুলে কাবুলে বিমানহানা চালিয়েছিল পাকিস্তান।

এর আগে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইজ়রায়েল। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, পাকিস্তানের লশকর-এ-ত্যায়বার সঙ্গে যোগ বাড়ছে হামাসের। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলেছিল তারা।

Pakistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy