E-Paper

সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকায় পাক বায়ুসেনাকর্তা

বাংলাদেশ এবং পাক বায়ুসেনার প্রতিনিধি দলের আলোচনা সম্ভবত বাংলাদেশ বায়ুসেনাবাহিনীর সদর দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হবে। দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ জুড়ে, বিশেষ করে বায়ুসেনার তিনটি বিমানঘাঁটি ও পরিকাঠামোয় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়।

অনির্বাণ দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৮:১৮

— প্রতীকী চিত্র।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বায়ুসেনার এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হল। গত রবিবার থেকে তা শুরু হয়েছে ঢাকায়। পাঁচ সদস্যের পাক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শাল ঔরঙ্গজ়েব আহমেদ। যিনি ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাক বায়ুসেনার ‘মুখ’ ছিলেন। ওই সময় তিনি পাকিস্তানের মুখপাত্র হয়ে উঠেছিলেন। গত ৭ মে ইসলামাবাদের এয়ার হেডকোয়ার্টার্স ‘মারকা-এ-হক’ (সত্যের যুদ্ধ দিবস)-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। কী ভাবে তিনি বায়ুসেনার পরিকল্পনা রচনা করেছিলেন তারও সবিস্তার উল্লেখ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে।

এ হেন গুরুত্বপূর্ণ এক বায়ুসেনা অফিসারকে বাংলাদেশে পাঠানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞেরা। আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলে অন্য সদস্যেরা হলেন এয়ার কমোডর শাহ খালিদ ও আবদুল গফুর বুজদার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলি খান এবং উইং কমান্ডার হাসান তারিক আজ়িজ়। আহমেদ বর্তমানে পাক বায়ুসেনার ডিরেক্টর জেনারেল পাবলিক রিলেশনস, ডেপুটি চিফ অফ এয়ার স্টাফ এবং এয়ার ফোর্স স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। পাক প্রতিনিধি দলটি কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৮ ফ্লাইটে দোহা হয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছয়।

বাংলাদেশ এবং পাক বায়ুসেনার প্রতিনিধি দলের আলোচনা সম্ভবত বাংলাদেশ বায়ুসেনাবাহিনীর সদর দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হবে। দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ জুড়ে, বিশেষ করে বায়ুসেনার তিনটি বিমানঘাঁটি ও পরিকাঠামোয় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে অন্তত দু’জন স্কোয়াড্রন লিডার এবং কয়েকজন নন-কমিশনড অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়। আটক করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে। অভিযান ও পরবর্তী তদন্ত নিয়ে বায়ুসেনা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও সূত্রের খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, আহমেদের নেতৃত্বে দলটি ‘১ম এয়ার স্টাফ টক’ (এএসটি) নামে দ্বিপাক্ষিক স্টাফ-স্তরের বৈঠকে অংশ নিতে এসেছে। মূল লক্ষ্য, দুই বিমানবাহিনীর সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলির মতে, এ বার বিমানবাহিনী স্তরেও আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হতে পারে। লালমনিরহাট এবং বগুড়া বিমানঘাঁটিতে পরিকাঠামো গত সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে পাক বায়ুসেনার প্রতিনিধি দলের সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে নতুন একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ গত বছরের শেষ দিকে শেষ হয়েছে। সেখানে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ও রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও চলছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pakistan Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy