বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে আগুন ধরে গেল বিমানের চাকায়। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে। ইস্তানবুল থেকে কাঠমান্ডুগামী ওই বিমানটিতে ২৭৮ জন যাত্রী এবং ১১ জন বিমানকর্মী ছিলেন। জানা যাচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেককেই বিমান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে।
টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে ৭২৬ বিমানটি সোমবার রাতে ইস্তানবুল থেকে কাঠমান্ডুর দিকে রওনা দিয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে সেটি কাঠমান্ডুতে পৌঁছোয়। বিমানবন্দরে অবতরণের সময়েই দেখা দেয় বিপত্তি। বিমানের একটি চাকায় আগুন ধরে যায়। যার জেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়়িয়ে পড়ে। সেই অবস্থাতেই রানওয়েতে অবতরণ করে বিমানটি। এর পরে বিমানবন্দরে উপস্থিত দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং সকল যাত্রীকে নিরাপদে বার করে আনা হয়। আধিকারিক সূত্রে এএনআই জানাচ্ছে, বিমানটিতে ২৭৮ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন রাষ্ট্রপুঞ্জের আধিকারিকও ছিলেন।
কী কারণে বিমানের চাকায় আগুন ধরল, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপালের এই বিমানবন্দরে ওঠা-নামার সময়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে সমস্যার মুখে পড়েছে বিমান। ২০১০ সাল থেকে একের পর এক বড় বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে নেপালে। গত বছরও কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা হয়েছিল। এটি হল একটি ‘টেবল টপ’ বিমানবন্দর। ‘টেবল টপ’ বিমানবন্দর বলতে বোঝায় যে বিমানবন্দরটি আশপাশের জমি থেকে উচুঁতে অবস্থিত। অর্থাৎ, যেখানে রানওয়ের একটি দিকে কিংবা একাধিক দিকে খাড়া ঢাল রয়েছে। এই ধরনের বিমানবন্দরগুলি সব সময় পাইলটের অভিজ্ঞতার পরীক্ষা নেয়।
আরও পড়ুন:
গত বছরের নভেম্বরে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরে শর্টসার্কিটের জেরে বিমান ওঠানামা বিঘ্নিত হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে কাঠমান্ডু থেকে ইস্তানবুলের উদ্দেশে যাওয়ার পথে কলকাতায় জরুরি অবতরণ করানো হয়েছিল। ওড়ার কিছু ক্ষণ পরে আচমকা পাইলট কিছু যান্ত্রিক গোলযোগের ইঙ্গিত পান। তাঁর সন্দেহ হয়, বিমানের ডান দিকের ইঞ্জিনটিতে আগুন ধরে গিয়েছে। ওই সময় বিমানটি কলকাতার কাছাকাছি ছিল এবং সাবধানতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সেটিকে নামিয়ে আনা হয়েছিল কলকাতায়।