Advertisement
E-Paper

‘অনেক জায়গা থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়’, শুভেন্দুর শপথ-মঞ্চে সঞ্চালনায় প্রশংসা পেতেই মুখ খুললেন মধুমন্তী

একটা সময় কলকাতা দূরদর্শনের পরিচিত মুখ। সংবাদপাঠিকা হিসেবে তাঁর একটা আকর্ষণ ছিল দর্শকের কাছে। অনেক সরকারি অনুষ্ঠানেও সঞ্চালনা করেছেন। অনেক দিন তিনি আড়ালে ছিলেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সেই খরা কি কাটল মধুমন্তী মৈত্রের?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৯:১৯
শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মধুমন্তীর ‘প্রত্যাবর্তন’

শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মধুমন্তীর ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবি: সংগৃহীত।

৯ মে ব্রিগেড ময়দানে হল নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমন্তী মৈত্র। কলকাতা দূরদর্শনে একটা সময় অন্যতম সংবাদপাঠিকার ভূমিকায় তাঁকে দেখেছেন দর্শক। একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনাও করেছেন। গত ১৫ বছর অবশ্য বিশেষ একটা দেখা যায়নি তাঁকে। তবে শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সেই খরা কি কাটল মধুমন্তীর? আনন্দবাজার ডট কমকে জানালেন সঞ্চালিকা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠান তাঁর কাছে প্রথম নয়। মধুমন্তী জানালেন, এ শহরে যত বারই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কোনও অনুষ্ঠান হয়েছে বেশির ভাগই ক্ষেত্রেই সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকে কোনও প্রস্তুতি ছিল না তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তেমন কোনও সূচিও দেওয়া হয়নি তাঁকে। মধুমন্ত্রী বলেন, ‘‘যা বলেছি সেটা তাৎক্ষণিক ছিল, পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। ভীষণ তাড়াহুড়োয় গোটা অনুষ্ঠানটা হয়েছে। আসলে বিগ্রেডে ঐতিহ্য বাদ দিলে আর লোক ভরানোর বিষয়টিকে সরিয়ে দিলে কোনও অনুষ্ঠান করার জন্য জায়গাটা খুব একটা আর্দশ নয়। রাজনৈতিক সমাবেশ করলে ঠিক আছে। কিন্তু এই মাপের অনুষ্ঠান করাটা বেশ অসুবিধার। কিন্তু ওদের এটা করতেই হত।’’

মধুমন্তী এর পরে বললেন, ‘‘আসলে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কখন আসবেন, কখন মঞ্চে উঠবেন— সেই সূচি দেওয়া হয়নি আমাকে। যদিও আমার মনে হয় যে কোনও সংযোজিকাই এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন। তবে এই ধরনের সরকারি অনুষ্ঠানে একটা নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকলে ভাল হয়। এখানে অবশ্য সময়ের অভাবে করা সম্ভব হয়নি।’’

যেহেতু প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল এসপিজির আধিকারিকদের। ওই দিন তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি মধুমন্তীর। যদিও তিনি বলেন, ‘‘আমি ওঁর বেশ কিছু অনুষ্ঠানে সংযোজনা করেছি। তাই মনে হয়, আমার মুখ চেনেন। তবে নামটা জানেন কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’’

মধুমন্তীর সঞ্চালনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। প্রশংসা করেছেন গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠেরাও। সবটা সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এটা বলতেই হবে, যে ভালবাসা পাচ্ছি তাতে আমি কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে খুব প্রশংসা পেলে আমি কুঁকড়ে যাই। আমার মনে হয় সবটাই ভাগ্য। আর সত্যিই বলতে, কেন এত প্রশংসা পেলাম সেটাই বুঝলাম না। এই উচ্ছ্বাসটাই বা কেন বুঝতে পারছি না।’’ বছরের পর বছর ধরে এই কাজটাই তিনি করে আসছেন। আগে কখনও তাঁকে নিয়ে এই উচ্ছ্বাস লক্ষ করেননি। তবে খানিকটা আক্ষেপের সঙ্গেই জানান, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রায় জন্মলগ্ন থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা স়ঞ্চালনার কাজ করেছেন। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে ছন্দপতন হয়।

এই প্রসঙ্গে মধুমন্তীর সাফ কথা, ‘‘আমি একেবারেই যে সরকারি অনুষ্ঠান করিনি তেমন নয়। অনেকের মধ্যে আমার নামটা শেষ থেকে দ্বিতীয় কিংবা প্রথমের মধ্যে থাকত। তবে ইংরেজি বলার অনুষ্ঠান হলেও অবশ্যই আমাকে ডাকা হত। তবে ২০১০ সালের পর যখন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব যখন থেকে ‘ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর বদলে উৎসবের রূপ নিল তখন থেকে জুন মাল্য সঞ্চালনা করতেন। এ রকম অনেক জায়গা থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ বার কেন্দ্রীয় তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রক আমার উপর ভরসা রাখলেন।’’

রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে যদিও পরিবর্তন এলেও খুব আশা যে দেখছেন তেমন নয়। রাতারাতি অনেক কাজ আসবে এমনটাও ভাবছেন না তিনি। বরং মধুমন্তীর সংযোজন, ‘‘গত ১৫ বছর আমাকে চেপে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের ন্যারেটিভ যে ছড়ানো হচ্ছে সেটা ঠিক নয়।’’ বরং যাঁরা বলছেন, ‘প্রত্যাবর্তন’ হয়েছে মধুমন্তীর, তাতেই তাঁর আপত্তি রয়েছে।

Suvendu Adhikari BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy