ভোট-পর্ব সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অফিসার ও কর্মীদের থানায় ২৪ ঘণ্টা থাকার নির্দেশ দিল লালবাজার। যাতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাঁদের তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায়। এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানার অফিসার ও কর্মীরা থানায় ২৪ ঘণ্টা থাকতে শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই কলকাতার নগরপাল এক নির্দেশে জানিয়েছিলেন, বাহিনীর যে সব সদস্য ব্যারাকে থাকেন, ডিউটি না থাকলেও তাঁদের ব্যারাকেই উপস্থিত থাকতে হবে। এ বার সেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অফিসারদেরও ২৪ ঘণ্টা থানায় থাকার নির্দেশ জারি করা হল।
এত দিন পুলিশ অফিসারেরা রাতে ডিউটি শেষ হলে বাড়ি চলে যেতেন। এক বা দু’জন অফিসার থানায় থাকতেন নাইট ডিউটিতে। কোনও কোনও থানায় ওসি অথবা অতিরিক্ত ওসির মধ্যে এক জন রাতে থাকতেন। নতুন নির্দেশিকার পরে এখন সর্বক্ষণ থানায় থাকছে পুরো বাহিনী, অর্থাৎ সব অফিসার, ছোটবাবু এবং গুন্ডা দমন শাখার অফিসারেরা। লালবাজার জানিয়েছে, কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা, বিশেষত অতিরিক্ত নগরপাল এবং যুগ্ম-নগরপালেরা প্রায় প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে মাঝরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে থাকছেন থানার অফিসারেরাও।
পাশাপাশি, ভোটের আগে রাতের শহরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টহল দিতে প্রতিটি থানাকে অন্তত চারটি করে মোটরবাইকে নজরদার দল তৈরি করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলের কাজ হবে রাতে দুষ্কৃতী-দৌরাত্ম্য ঠেকাতে অলিগলিতে টহল দেওয়া। পুলিশকর্তারা জানান, এই নজরদার দল তৈরি করতে বলেছে নির্বাচন কমিশনই। সেই সঙ্গে তারা প্রতিটি থানাকে নির্দেশে বলেছে, সোমবার রাতের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার এক জন করে কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করতে হবে। সূত্রের খবর, সেই অনুযায়ী থানাগুলি কাজ শুরু করেছে।
লালবাজার জানিয়েছে, রবিবার পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বাহিনীর একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেন নগরপাল অজয়কুমার নন্দ। সেখানে তিনি কমিশনের নির্দেশ কঠোর ভাবে মেনে চলার জন্য বাহিনীর সদস্যদের বলেন। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং ভোটের সময়ে কোনও রকম গোলমাল ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করারও নির্দেশ দেন। এক পুলিশকর্তা জানান, ওই বৈঠকে নগরপাল কলকাতা পুলিশের সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপরেও জোর দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)