E-Paper

শুভেচ্ছায় ভোটের বার্তা স্পষ্ট নববর্ষে

নববর্ষ উপলক্ষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ‘খোলা চিঠি’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী অপশাসন, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির শিকার’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৭
(বাঁ দিক থেকে) অমিত শাহ,  নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

(বাঁ দিক থেকে) অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মিলেমিশে একাকার হল নববর্ষ আর নির্বাচন। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান রাজনীতির প্রচার-মঞ্চ হয়ে উঠল রাজ্য জুড়ে। ভোটমুখী রাজ্যে নতুন বছরের শুভেচ্ছা-বার্তায় জুড়ে গেল ভোটের আবেদন। ভোটের কথা মাথায় রেখেই সেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাঁরাই নন, তালিকায় যুক্ত হলেন রাজ্যের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির পরের সারির নেতা-মন্ত্রী, কর্মকর্তারাও।

নববর্ষ উপলক্ষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ‘খোলা চিঠি’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী অপশাসন, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির শিকার’। সেই সঙ্গেই তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘মা-বোনেদের নিরাপত্তা, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, গরিব মানুষের অধিকার থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসী বঞ্চিত।’ বাংলায় লেখা চিঠিতে বাঙালির আবেগ ছুঁতে চেয়ে মোদীর বার্তা, ‘এই শুভ নববর্ষের দিনে আসুন সকলে মিলে নবজাগরণের সঙ্কল্প করি’। ভোটের আবেদন করেই তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলব, যেখানে গরিব মানুষের মাথার উপরে ছাদ, সবার পাতে ভাত থাকবে। মহিলারা নির্ভয় ও নিরাপদে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে, যুব সমাজকে কাজের খোঁজে ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে হবে না’।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘পয়লা বৈশাখের এই শুভ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা। সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সাহিত্যিক এবং বীর বিপ্লবীদের গৌরবে ভরা এই বাংলায় নতুন বছরে আসুক উন্নয়ন, সুশাসন ও সকলের কল্যাণের এক নতুন অধ্যায়।’ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও।

পক্ষান্তরে, রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিয়ো-বার্তায় নাম না-করলেও সরাসরি বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘‘দিল্লির জমিদারেরা অনেক অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপরে জুলুম অত্যাচার করছে।’’ তার পরেই তাঁর আবেদন, ‘‘এই অত্যাচারের বদলা নিন। দয়া করে আপনারা ভোট দিন।’’ ভোটার তালিকার সংশোধন সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে এনে তিনি আরও বলেন, ‘‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, এসআইআরের জন্য যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি জানি, একটা পরিবারে চার জন ভোট দেবেন, এক জন পারবেন না, সেটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’ সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মনে করালেন, ‘‘আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। ৩২ লক্ষ বাদ যাওয়া নামকে তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছেন, তাঁদের নামও আশা করি ভবিষ্যতে উঠবে। কারণ, ট্রাইবুনাল চলছে।’’

এই দিনে বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচনী প্রচারে তিনি বলেন, ‘‘পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাকে পাল্টাতে গিয়ে পাল্টে গিয়েছেন বিজেপির নেতারাই! এটাই বাংলার ক্ষমতা।’’ তাঁর মন্তব্য, ‘‘মাছ হাতে প্রচার করছেন! ভোটের পরে মাছের দোকানে বসিয়ে মাছ ও বিক্রি করাব!’’

বাংলা নববর্ষের দিন শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রচার সেরেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই শোভাযাত্রায় জনসমাগম হয়েছিল চোখে পড়ার মতো। ফিরিঙ্গি কালীবাড়িতে পুজো দেন বিজেপির মানিকতলা, শ্যামপুকুর, চৌরঙ্গি এবং জোড়াসাঁকোর প্রার্থী তাপস রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সন্তোষ পাঠক এবং বিজয় ওঝা। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এবং উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব মাছ-সহ বাঙালি খাদ্য দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরেছেন তমোঘ্নের বাড়িতে । হাতে মাছ নিয়ে ধুতি পরে প্রচার করেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী।

রাজ্য জুড়ে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস প্রার্থী এবং নেতারাও শামিল হয়েছিলেন এলাকার শোভাযাত্রা ও নববর্ষ উদযাপনের কর্মসূচিতে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP Mamata Banerjee Narendra Modi Amit Shah

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy