অঙ্গ এবং কলিঙ্গ জয় আগেই হয়ে গিয়েছে। মাঝখানে বাকি ছিল বঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে লিখলেন ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে!’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতে, অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। পাশাপাশি রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।
ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। প্রধানমন্ত্রীর লব্জে বার বার উঠে এসেছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারংবার অনুপ্রবেশকারী সমস্যাকে ইস্যু করেছেন। সোমবার ভোটের ফলাফল পরিষ্কার হতেই মোদী লিখলেন, ‘‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই।’’ সমাজমাধ্যমে মোদী আরও লেখেন, ‘‘জনগণ বিজেপির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাঁদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সমস্ত কিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’’
অন্য দিকে, শাহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব।’’
শাহের দাবি, বিজেপির এই জয় তৃণমূলের ভয়ের ঊর্ধ্বে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয়। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার মতো প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। যে গঙ্গোত্রীতে মা গঙ্গার উৎস, সেখান থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির গেরুয়া পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’’ শাহের সংযোজন, ‘‘বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ফল। সেই সমস্ত পরিবারের ধৈর্যের জয়, যারা হিংসা সহ্য করেও গেরুয়া পতাকা ছাড়েনি। শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছোনোর এই কঠিন যাত্রায় যে কর্মীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি, সেই সকল কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে প্রণাম জানাই। বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বিজেপির সেই সকল শহিদ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের ফল নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহাপুরুষের পবিত্রভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:৪১
শূন্যের গেরো কাটিয়ে সিপিএম হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মুর্শিদাবাদী! এক বিধায়ক নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে লাল সেলিম -
১৯:২৭
চেনা ময়দানে ফিরে ফের ছক্কা হাঁকালেন দিলীপ! হেরেছিলেন লোকসভায়, বিধানসভায় স্বমেজাজে ফিরলেন ঘোষ -
১৯:০৮
জেল খেটে আসা বালুকে তাঁর কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছিলেন মমতা! তিন বারের বিধায়ককে এ বার প্রত্যাখ্যান হাবড়ার -
সরাসরি
১৮:৫৮
‘পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল’, প্রধানমন্ত্রীর মুখে বঙ্কিমচন্দ্র, ঋষি অরবিন্দের কথা -
১৮:৫৫
নিজের গড় নন্দীগ্রামকে আরও পোক্ত করলেন শুভেন্দু, বৃথা গেল তৃণমূলের ‘পবিত্র’ চেষ্টা! মিলল না অভিষেকের অনুমান