ভোটগণনার বিকেলে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে। বিকেলে তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ওই গণনাকেন্দ্রের সামনে। তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, অভিষেক প্রার্থী নন। তাই তাঁকে গণনাকেন্দ্র থেকে বার করে দিতে বলা হয়েছে।
ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ২০ রাউন্ডে গণনা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ১৩ রাউন্ড গণনার ফল প্রকাশ করেছে কমিশন। এরই মধ্যে সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় পরে শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে পৌঁছে যান। দু’জনেই গণনাকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন। ভবানীপুরের উভয় প্রার্থীরই মোবাইল ফোন জমা নিয়ে নিতে বলেছে কমিশন। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যায় না।
উল্লেখ্য, অভিষেক গণনাকেন্দ্রের কাছে পৌঁছোনোর পরে তাঁকে উদ্দেশে করে স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সেই স্লোগানকে ‘উপেক্ষা’ করে তিনি বলেন, “গণনা এখনও বাকি রয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি ভোট এখনও গণনা বাকি আছে। প্লিজ় অপেক্ষা করুন। মানুষের যা রায় হবে,সকলের উচিত সেটা মাথা পেতে নেওয়া। কিন্তু যে ভাবে স্লো কাউন্টিং হচ্ছে… সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে গণনা চলছে। ২০২১ সালে (এই সময়ের মধ্যে) ৯০ শতাংশ গণনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ বার কোথাও কোথাও এখনও ৪,৫,৬,৮ রাউন্ড গণনা হয়েছে, বাকিটা বাকি রয়েছে। আমি সকলকে অনুরোধ করব, ধৈর্য ধরুন। প্রত্যেক কাউন্টিং এজেন্টকে অনুরোধ করব, কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরোবেন না।”
আরও পড়ুন:
এ বারের নির্বাচনের লড়াইয়ে একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভবানীপুর। তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর মধ্যে সোমবার সকাল থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। শুরুর দিকে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে থেকেছেন। পরে মমতা দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান ক্রমশ কমিয়েছেন শুভেন্দু। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ১৩ রাউন্ড গণনা শেষ হয়েছে ভবানীপুরে। এখনও সাত রাউন্ড গণনা বাকি।
মমতা যখন গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোন, তার আগে থেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একটি জটলা তৈরি হয়েছিল সেখানে। মমতার গাড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোতেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। ওই স্লোগান এবং হট্টগোলের মাঝেই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন মমতা। এর কিছু ক্ষণ পরেই কমিশন অভিষেককে সাখাওয়াতের গণনাকেন্দ্রের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে বলে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত