২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বদল এনেছে। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ গেরুয়া ঝড়ের সাক্ষী। ঘাসফুলের রাজত্বে পদ্মফুলের দাপট দেখে সরব বলিউড তারকারাও। গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য আনন্দবাজার ডট কম-কে সাফ জানিয়েছেন, তিনি হিন্দুস্থান চান। হিন্দুদের যে বা যারা দেখবে, তিনি তাদের সমর্থন জানাবেন।
বাংলায় পদ্ম শিবিরের দাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন ধারাবাহিক ‘অনুপমা’র নায়িকা এবং বিজেপি নেতা রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়ও। তাঁর সাফ দাবি, “অবশেষে ভয় সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হল।”
আরও পড়ুন:
বিজেপির আসনসংখ্যা বাংলায় যত বেড়েছে, সমাজমাধ্যমে ততই মতামতের বানভাসি। অভিজিৎ যেমন এই প্রজন্মকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, “ধর্মের নামে, সর্বধর্মসমন্বয়ের নামে অনেকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করবে। অনেক কথা বলবে। আগে গর্ব করে বলো, আমি হিন্দু।” আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করলে তিনি একই কথা বলেন। হিন্দুত্ববাদের কারণেই কি বাংলায় বিজেপি ঝড়? প্রশ্নের জবাবে গায়কের বক্তব্য, “কোনও দল আমার শত্রু নয়। কী কারণে বাংলায় পদ্ম ফুটল সে খবর আমার জানার কথা নয়।”
অভিজিৎ আরও বলেন, “কানপুরে বড় হয়েছি। হিন্দি বললেই মা বলতেন, ‘হিন্দি বলছ কেন! আমরা হিন্দু নই। আমরা বাঙালি।’ পরে বড় হয়ে বুঝলাম, মাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। আমরা আগে হিন্দু। তার পর বাঙালি।” উদাহরণ হিসাবে তিনি বাংলাদেশিদের কথা বলেন। জানান, তাঁরাও বাংলায় কথা বলেন। সুতরাং তাঁরাও বাঙালি। তাই আগে সবাইকে ‘হিন্দু’ হতে হবে।
ভারত বরাবর ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আজ যদি সেই দেশ শুধুই ‘হিন্দুস্থান’ হয়ে যায়..., কথা শেষের আগেই সরব অভিজিৎ। তাঁর দাবি, “ভারত কোনও কালে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ছিল না। এটা আমাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। আমাদের দেশ হিন্দুদের দেশ।” গায়ক কি তা হলে ধর্মগন্ধী? “অনেকেই আমায় সে রকমই ভাবেন”, দাবি তাঁর। আদতে তিনি শুধুই হিন্দুদের নিয়ে কথা বলেন। অন্য কোনও ধর্মকে নিয়ে নয়, জানালেন গায়ক। সঙ্গে এ-ও যোগ করলেন, “মুসলিম আমার বন্ধু হতেই পারেন। কিন্তু আমার ভাই হিন্দু।” আগামী দিনে কি তা হলে শাহরুখ, সলমন বা আমির খানের ছবিতে গাইবেন না তিনি? অভিজিৎ অবশ্য এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অভিনেত্রী, রাজনীতিবিদ রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
রূপালিও কলকাতার মেয়ে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে সমাজমাধ্যমে তাই তাঁর পোস্ট। তাঁর মতে, ভয়কে তুচ্ছ করে গণতন্ত্রকে বেছে নিয়েছ বাংলা। পাশাপাশি, কলকাতায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তিনি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সকেও (সিআরপিএফ) কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ‘অনুপমা’ লিখেছেন, “সিআরপিএফ জওয়ানদের ধন্যবাদ। তাঁদের জন্যই অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব হয়েছে।”