ঘন ঘন শ্যাম্পু করেও চুলকে কোমল ও ধুলোমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতা। ঘাম, ধুলো, ময়লার সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। এমন সময়ে স্পা করালে চুল ভাল থাকে বটে, কিন্তু পার্লারে গিয়ে বার বার কেশচর্চা করানোর সামর্থ্য সকলের থাকে না। সে ক্ষেত্রে বাড়িতেই স্পা করানো যায় চুলে। এতে প্রবল গরমেও আপনার কেশরাশি থাকবে কোমল। মেনে চলুন পাঁচ ধাপের নিয়ম—
প্রথম ধাপ- তেল মালিশ। গোটা প্রক্রিয়ার ভিত বললে অত্যুক্তি হবে না। নারকেল তেল বা বাদাম তেল অথবা আর্গন অয়েল একটু গরম করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ১০-১৫ মিনিট মালিশ করতে হবে। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং মাথার ত্বক পুষ্টি পায়।
বাড়িতেই স্পা করানো যায় চুলে। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় ধাপ- গরম তোয়ালে দিয়ে বাষ্প নিতে হবে তেল মাখার পর। তেল মালিশের পর একটি গরম জলে ভেজানো তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এই তাপ চুলের কিউটিকলগুলিকে খুলে দেয়, ফলে তেল ভিতরে প্রবেশ করে চুলকে পুষ্ট করতে পারে। তোয়ালে ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার গরম জলে চুবিয়ে মাথায় মুড়িয়ে নিতে হবে।
তৃতীয় ধাপ- মৃদু, সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুতে হবে। সমস্ত তেল ও সাবান পুরোপুরি চুল থেকে দূর করে দিতে হবে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত গরম জল দিয়ে মাথা ধুলে চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই, ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করা উচিত। মাথা পরিষ্কারও হবে, আবার আর্দ্রতাও নষ্ট হবে না। এই ধাপে একেবারই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না।
চতুর্থ ধাপ- ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক প্রয়োগ করতে হবে চুলে। এই ধাপেই স্পায়ের মজা শুরু। চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত মেখে নিতে হবে মাস্ক। যদি হাতের কাছে বাজারজাত মাস্ক না থাকে, তা হলে ঘরোয়া মাস্কেও কাজ হতে পারে। কলা ও মধু পিষে নিয়ে বা অ্যালো ভেরা ও নারকেল তেল মিশিয়ে মেখে নিতে পারেন মাথায়। ২০-৩০ মিনিট রেখে মাথা ধুয়ে নিন। এতে চুলে শুষ্কতা কমে, চুল নরম এবং উজ্জ্বল হয়।
আরও পড়ুন:
পঞ্চম ধাপ- শেষ ধাপে এসে ঠান্ডা বা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। কোনও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ যেন তাতে না থাকে। ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে তবেই আর্দ্রতা ও পুষ্টি বজায় থাকবে চুলে। তার পর মাইক্রোফাইবারের তোয়ালে বা নরম গামছা দিয়ে মাথা মুছে নিতে হবে আলতো করে। ব্লো ড্রায়ারের বদলে বাতাসে শুকোতে দিন চুলকে। দু’সপ্তাহে এক বার এ ভাবে চুলের পরিচর্যা করলে এই গরমেও চুল থাকবে রেশমের মতো।