আসন্ন ভোটের দিকে তাকিয়ে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সব দল সমাজমাধ্যমে প্রচার তুঙ্গে তুলতে দৃশ্যতই নানা কৌশলে জোর দিচ্ছে। এই আবহে দলের প্রচার-ভাষ্যকে তুলে ধরতে বাস্তবের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমকেও সমান ভাবে ব্যবহার করে তৃণমূলের জন্য ‘চক্রব্যূহ’ তৈরির নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
রাজারহাটের একটি হোটেলে মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নিতিন। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি বলেছেন, নেট মাধ্যমে এবং মাঠে নেমে তৃণমূলকে প্রচারের চক্রব্যূহে ঘিরতে হবে। নবতম প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বেশি ইতিবাচক প্রচার চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সূত্রের মতে, নিতিন বৈঠকে বলেছেন, বিজেপি জিতছে, এই ভাষ্যের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকলে তবেই সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করবেন। সরকার বদলাচ্ছেই, প্রচারের মাধ্যমে এই আবহ ‘নিশ্চিত’ করতে জোর দিয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যমকে এ হেন গুরুত্ব দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন নিতিন। বিজেপি সূত্রে খবর, নিতিনের পরমার্শ, সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে সরাসরি মানুষের ভাবনার স্তরে দাগ কাটা সম্ভব।
তবে সূত্রের দাবি, শুধু সমাজমাধ্যম নয়, নিতিন মেনে নিয়েছেন, রাজ্যে দলের অন্যতম দুর্বল জায়গা বুথ-সংগঠন। এই জায়গা মেরামত করতে বাড়তি সময় দেওয়া, তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রার্থীদের আপাতত গোটা রাজ্যের বদলে নিজ-নিজ আসনে মনোনিবেশ করতেও বলেছেন নিতিন।
ঘটনাচক্রে, নিতিনের রাজ্য সফরের মধ্যেই ফের বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে দলের বিধাননগর দফতরে। বলাগড়ের বিজেপি কর্মীদের একাংশ এ দিন প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ করলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রার্থী তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বিক্ষোভ ঘিরে সিআরপি-কে লাঠি পর্যন্ত চালাতে হয়েছিল। এ বার অবশ্য ‘গান্ধীগিরি’র নীতি নিয়ে দলের তরফে বিক্ষোভকারীদের জল, খাবার দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দফতরে ঢোকার সময়ে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুভেন্দু তাঁদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছেন, “আমিও জয় শ্রীরাম বলছি, ওঁরাও তা-ই বলছেন। কোনও বিভেদ নেই।” আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “এগুলো বিচ্যুতি। মাঝেমধ্যে এমনটা হয়, বড় বিষয় নয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)