এক দিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানা ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার বিরুদ্ধে এ বার মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার রাত থেকেই একের পর এক আধিকারিক অপসারণ শুরু হয়েছে। রবিবারও রাজ্য পুলিশে এবং প্রশাসনে একঝাঁক রদবদল করেছে কমিশন। ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের ১৭০ থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে অপসারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও)-কে। তালিকায় রয়েছেন নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের বিডিও-ও।
রবিবার কমিশন যে বিডিও -দের বদলি করেছে, তার মধ্য সবচেয়ে বেশি অপসারিত হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। এই জেলা থেকে ১৪ জন বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলায় ১১ জনকে বদলি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে একের পর এক শীর্ষ আধিকারিকের অপসারণের বিরোধিতা করে আগেই হাই কোর্টে মামলা করেন কল্যাণ। কমিশন যে ভাবে আধিকারিকদের বদলি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বদলির ধরন দেখে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ আদালতে জানান, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে এ ভাবে বদলি করা যায়। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে এমন কিছু জারি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্য দিকে কী কারণে বদলি করা হচ্ছে, তা নিয়ে কমিশনও নিজেদের বক্তব্য জানায় আদালতে। এ বার রাজ্যের একঝাঁক বিডিও এবং ওসি অপসারণের বিরোধিতা করে ফের হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কল্যাণ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত