মালদহে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় গ্রেফতার হলেন মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ১৭ জন অভিযুক্তকে। তাঁদের সকলকেই বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়েছে মালদহ জেলা আদালতে।
বুধবার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয় সাত জন বিচারককে। তাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলাও ছিলেন। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ব্লক অফিসে আটকে থাকার পর ঘেরাওমুক্ত হন তাঁরা। ওই ঘেরাওয়ের ঘটনায় এ বার মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
গ্রেফতারির পরে আদালতে পেশ করার সময়ে শাহজাহান বলেন, “আমি আইএসএফ প্রার্থী বলে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।” ধৃত প্রার্থীর দাবি, ঘটনার সময়ে তিনি ওই বিক্ষোভস্থলেই ছিলেন না। আইএসএফ প্রার্থীর দাবি, তিনি জলসায় গিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে বলেই দাবি মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থীর।
বুধবার সকাল থেকেই মালদহের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে কেন, এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। ওই সময়ে মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে কাজ করেছিলেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা। দুপুরের দিকে সেই ব্লক অফিসের সামনে বাড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বৈধ নথিপত্র থাকার পরেও তাঁদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার পরে ভোট হবে। এই দাবিতে বিক্ষোভের সুর ক্রমশ চড়তে থাকে।
সূত্রের খবর, বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারকদের ব্লক অফিস ছাড়ার কথা ছিল। তাঁর আগে থেকেই কালিয়াচক ২ বিডিও অফিস দৃশ্যত ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। ব্লক অফিসের গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বিকেল ৪টে থেকে ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন সাত বিচারক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয় তাঁদের। শেষে মধ্যরাতে পুলিশের গাড়িতে করে তাঁদের উদ্ধার করা হয় ব্লক অফিস থেকে। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে ঘেরাও থাকার পরে মুক্ত হন তাঁরা।