আগের দু’দফার চেয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই উত্তেজিত হয়ে উঠল তৃতীয় দফার ভোট। চার জেলার ৬২টি আসনে ভোট গ্রহণের দিন রক্তপাত ঘটল বিভিন্ন জায়গায়। পাশাপাশি এ বারের নির্বাচনে ভোটের দিন এই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা মুর্শিদাবাদের ডোমকলে।
মুর্শিদাবাদের ২২টি, নদিয়ায় ১৭টি, গ্রামীণ বর্ধমানে ১৬টি এবং কলকাতা শহরের ৭টি কেন্দ্রে ভোট ছিল বৃহস্পতিবার। ডোমকলের পাশাপাশি বর্ধমানের গলসি, কেতুগ্রাম, জামালপুর রায়নাতে ভোটের দিন অশান্তি ছড়িয়েছে। গণ্ডগোল বেঁধেছে নদিয়ার চাকদহ, কল্যাণী গয়েশপুরেও। কোথাও বিরোধীদের তরফে পাল্টা প্রতিরোধ হয়েছে। কোথাও আবার সাধারণ মানুষকেও এক তরফা ভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে। কলকাতা শহরে তেমন বড় ঘটনা না ঘটলেও বুথ-দখল, ছাপ্পা ভোট, বুথ থেকে বিরোধীদের বার করে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় কাশীপুর, বেলগাছিয়া কেন্দ্রে দুই তৃণমূল নেতা স্বপন চক্রবর্তী এবং আনোয়ার খানকে নজরবন্দি রাখার নির্দেশ দিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তার মধ্যে আনোয়ারকে নিয়ে দিনভর নাটকও চলেছে। পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যে বসেই কমিশন সম্পর্কে তিনি কুকথা বলেছেন, তার পরেই নজরবন্দি দশা থেকে অন্তর্হিত হয়েছেন, আবার পরে দমদম থেকে গ্রেফতারও হয়েছেন।
সব মিলিয়ে চতুর্থ পর্বের ভোটে কমিশনের ভূমিকায় খুব সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল গুপ্তের কাছে গিয়ে ডোমকল গয়েশপুর এবং কলকাতার ভোট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য। সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা আরও কড়া ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলাম।’’ তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের দাবি, পুরভোটের মতো ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়া এ বার রুখতে পারেনি শাসক দল। সেলিমের কথায়, ‘‘হারের আতঙ্ক চেপে বসেছে বলে তৃণমূল আরও বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে। মানুষ এটা ধরে ফেলেছেন। তাই, এই অপশাসনের অবসান ঘটাতে গরম এবং সন্ত্রাসের মধ্যেও মানুষ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সব মিলিয়ে গড়ে ৭৯.২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৭৯.২৯ শতাংশ, নদিয়া ৮১.৬২ শতাংশ, কলকাতা উত্তরে ৫৭.০৫ শতাংশ এবং বর্ধমানে ৭৮.২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।