লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের লক্ষ্য সলমন খান, তাঁর মৃত্যু চায় তারা। ‘ভাইজান’কে প্রাণে মারবেন বলেই বিশ্নোইয়ের সদস্যরা বছর দুই আগে অভিনেতার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে গুলি চালিয়েছিল। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এ কথাই বললেন সলমনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী।
সাল ২০২৪-এর ১৪ এপ্রিল। খবর, আন্দাজ ভোর ৫টায় বাইকে আসা দুই ব্যক্তি সলমনের বান্দ্রার বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালায়। তারই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এ বছরের এপ্রিলে। সূত্রের খবর, আদালতে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সলমনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী জানান, একাধিক বার হামলার কারণে সলমনের বাড়ি এবং অভিনেতাকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় তিনি তাঁর রাতের শিফটে যোগ দেন। সাক্ষীর বিবরণ অনুযায়ী, “ভোর ৫টায় আমরা পটকার মতো শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভিতে দেখি, হেলমেট পরা দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় একটি বাইকে করে ভবনের দিকে গুলি চালাচ্ছে।” সেই সময়ে সলমন ছিলেন তাঁর শোয়ার ঘরে।
আদালতে সলমনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী আরও জানান, হামলাকারীরা চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। তাঁর দাবি, “আমরা সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়ি।” তিনি যোগ করেন, “আমি এবং অন্য রক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে প্রধান ফটক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাই।” কিন্তু হামলাকারীরা ‘আই লাভ বান্দ্রা’ পয়েন্টের দিকে বাইক নিয়ে পালায়। তার পর মেহবুব স্টুডিয়ো রোডের দিকে দ্রুত চলে যায়। দেহরক্ষীর বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারি আইনজীবী মহেশ মূলে আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ পেশ করেন।
খবর, সলমনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে এর পর জেরা করেন বিপক্ষের আইনজীবী বাবর। জেরায় সাক্ষী নিশ্চিত করেন, তিনি যখন প্রথম শব্দ শোনেন, তখন তিনি নিরাপত্তা কেবিনের ভিতরে ছিলেন। তিনি আরও জানান, অভিনেতাকে হুমকিবার্তায় কী বলা হয়েছিল তিনি জানেন না। এক পুলিশ প্রহরী সলমন-গুলি কাণ্ড প্রসঙ্গে আদালতকে জানান, ঘটনার সময় তিনি লবিতে ছিলেন। নিজের চোখে কাউকে গুলি চালাতে দেখেননি। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার করেন। প্রসঙ্গত, পুলিশ ইতিমধ্যেই হামলাকারী হিসাবে ভিকি গুপ্ত এবং সাগর পালকে শনাক্ত করেছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, মহম্মদ রফিক সরদার চৌধরী দু’দিন আগে সলমনের বাসভবন রেকি করেছিলেন। সেই রেকির একটি ভিডিয়ো হামলাকারী হিসাবে শনাক্ত দুই অভিযুক্ত এবং লরেন্স বিশ্নোইয়ের ভাই আনমোল বিশ্নোইকে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে ভিকি গুপ্ত, সাগর পাল, সোনুকুমার বিশ্নোই, মহম্মদ রফিক চৌধুরী এবং হরপাল সিংহ বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। আরও এক অভিযুক্ত অনুজকুমার থাপন, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। কারারুদ্ধ গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই এবং তাঁর ভাই আনমোল বিশ্নোইকে এই মামলায় ‘পলাতক আসামি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।