এক দিনে তিনটি জনসভা, একটি রোড শো! পশ্চিমবঙ্গে আগে কখনও এক দিনে এতগুলি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অংশ নেননি। তাতেই শেষ নয়। রবিবার শিলিগুড়িতে জনসভা করবেন বলে শনিবার রাতে উত্তরবঙ্গে থেকেও গেলেন মোদী। তথাকথিত ‘চিকেনস নেক’-এর উপকণ্ঠে তরাইয়ের চা-বলয়কে বেছে নেওয়া হল প্রধানমন্ত্রীর রাত্রিযাপনস্থল হিসাবে। রবিবার সকালে সেখান থেকেই সরাসরি শিলিগুড়ির সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী যাবেন।
শনিবার সন্ধ্যায় দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে রোড শো করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে রাজ্যে তিনি একই দিনে তিনটি জনসভা করেন। প্রথমটি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়, দ্বিতীয়টি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরে এবং তৃতীয়টি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডিতে। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে তিনি সরাসরি পৌঁছোন বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে বেরিয়ে বিহার মোড় হয়ে গোসাঁইপুর থেকে মাটিগাড়া পর্যন্ত রোড শো করেন।
প্রধানমন্ত্রী যে শনিবার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে রোড শো করবেন, তা দু’দিন আগেও স্থির ছিল না। বরং শিলিগুড়ি শহরে তাঁর রোড শোয়ের পরিকল্পনা হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে শিলিগুড়িতে প্রধানমন্ত্রীর রোড শোয়ের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। স্থির হয় যে, তিনি কাওয়াখালি ময়দানে জনসভা করবেন। তার জন্য শিলিগুড়িতে কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার স্থির হয় যে, প্রধানমন্ত্রী মাটিগাড়ায় শনিবার রোড শো-ও করবেন। ফলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে রাতারাতি রোড শোয়ের প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রস্তুতি নিতে হয় প্রশাসনকেও। তবে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর রোড শো শনিবার নির্বিঘ্নেই মিটেছে। তাঁর রোড শো চলাকালীন রাস্তায় দু’টি অ্যাম্বুল্যান্স এসে পড়ায়, প্রধানমন্ত্রীর কনভয় এক পাশে সরে যায়। অ্যাম্বুল্যান্স দু’টিকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দেওয়া হয়।
কনভয়ের গাড়িতে বসেই রোড শো শুরু করেছিলেন মোদী। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা জমায়েতের দিকে হাত নাড়াতে নাড়াতে এগোচ্ছিলেন তিনি। তবে মাঝপথে আচমকাই গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী নেমে পড়েন। ১০০ মিটারের মতো পথ তিনি পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন। তার পরে ফের গাড়িতে উঠে এগোতে থাকেন। রাতে মাটিগাড়া এলাকায় চা-বলয়ের মাঝে একটি রিসর্টেই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মণের কথায়, ‘‘এটা আমার সৌভাগ্য যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার বিধানসভা কেন্দ্রে রোড শো করলেন। বেশ খানিকটা রাস্তা হেঁটেও জনসংযোগ করলেন। প্রধানমন্ত্রী আমার বিধানসভাতেই রাতে থাকছেন। এক লক্ষ ভোটে জয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নিয়েছি, তা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল৷’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত