E-Paper

প্যারামেডিক্যালে ভর্তিতে কি দুর্নীতির ভূত! প্রার্থী নিয়ে রহস্য

শেষ পর্যন্ত কোনও মতে দুর্নীতি চাপতে অপ্টোমেট্রির (চোখ পরীক্ষার বিষয়) স্নাতকে ভর্তি হতে আসা বৈধ প্রার্থীকে ভর্তির সময়সীমা পার হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কার্যত জবরদস্তি এসএসকেএম হাসপাতালের ফিজিয়োথেরাপির স্নাতকে ভর্তি হতে বাধ্য করে স্বাস্থ্য দফতর।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৭:০৯

—প্রতীকী চিত্র।

সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যারামেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগকারীদের দাবি, কলেজের এক শ্রেণির কর্মী ও আধিকারিকেরা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ রাজ্যে টাকার বিনিময়ে স্কুলের চাকরির যেমন নজির রয়েছে, তেমনই বিভিন্ন সরকারি চাকরি এবং ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির আসন বিক্রির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এ বার সামনে এল প্যারামেডিক্যালে দুর্নীতি।

খাস কলকাতার বুকে প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল ‘কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে’ প্যারামেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনায় নির্বাচনের মুখে অস্বস্তিতে পড়েছে স্বাস্থ্য দফতর। রহস্যজনক কারণে ওই হাসপাতালে বৈধ প্রার্থীর আসনে কাউন্সেলিং পর্ব শেষ হওয়ার আগেই অন্য পড়ুয়াকে ভর্তি নিয়েছিল তারা। বৈধ প্রার্থী যখন তাঁর নথিপত্র সমেত হাজির হন, তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়েন বেকায়দায়। প্রার্থীকে পাঠিয়েছে খোদ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। তারাও মেডিক্যালের উপরে চাপতৈরি করেছে।

শেষ পর্যন্ত কোনও মতে দুর্নীতি চাপতে অপ্টোমেট্রির (চোখ পরীক্ষার বিষয়) স্নাতকে ভর্তি হতে আসা ওই বৈধ প্রার্থীকে ভর্তির সময়সীমা পার হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কার্যত জবরদস্তি এসএসকেএম হাসপাতালের ফিজিয়োথেরাপির স্নাতকে ভর্তি হতে বাধ্য করে স্বাস্থ্য দফতর। তাঁকে দিয়ে সইসাবুদও করিয়ে নেওয়া হয়।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমান্ডির প্রত্যন্ত গ্রাম বড়গাছির বছর কুড়ির তরুণী তুহিনা পরভিন ম্লান মুখে বলেন, ‘‘সরকারের সঙ্গে তো আর লড়াই করে পারব না। আমার বাবা সাধারণ কৃষক। আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করেছি। আমাদের হয়ে লড়াইয়ের কেউ নেই। এখন যদি সরকারের কথা মতো অপ্টোমেট্রির জায়গায় ফিজিয়োথেরাপি না নিই, তা হলে হয়তো কোথাও ভর্তিই হতে পারব না। প্রথম দিন তো মেডিক্যাল কলেজ সরাসরি আমাকে, ‘সিট নেই’ বলে তাড়িয়েই দিয়েছিল।’’

‘প্যারামেডিক্যাল অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস’-এর বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে ভর্তির জন্য আলাদা জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষা হয়। জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড তা নেয়। সফল প্রার্থীদের তিন রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের পরে যে আসনগুলি খালি থাকে, সে জন্যে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই ভাবেই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমোদন নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অন্তর্গত ‘রিজিয়োনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজি’ (আরআইও)-তে অপ্টোমেট্রির স্নাতক স্তরে ১৮ মার্চ ভর্তি হতে আসেন তুহিনা।

তাঁর অভিযোগ, কাগজপত্র দেখে হাসপাতালের ডিন অরূপ চক্রবর্তী জানিয়ে দেন, তাঁদের অপ্টোমেট্রির ১১টি আসনে ভর্তি শেষ। ফলে তুহিনার জায়গা নেই। তাঁকে চলে যেতে বলা হয়। তুহিনা যোগাযোগ করেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তুহিনা বৈধ প্রার্থী। এবং অনলাইনে আরআইও-র অপ্টোমেট্রিতে আসন খালি আছে দেখেই ‘মপআপ কাউন্সেলিং’ পর্বে তুহিনাকে পাঠানো হয়েছে। তা হলে সব আসন ভর্তি হয় কী ভাবে? কারা, কী ভাবে, কখন ভর্তি হলেন?

উত্তর দিতে পারেন না মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ছিল ভর্তির শেষ দিন। বুধবারের পরে বৃহস্পতিবারেও সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তুহিনাকে অপেক্ষায় রেখে শেষ পর্যন্ত আরআইও-র অপ্টোমেট্রির বদলে এসএসকেএমের ফিজিয়োথেরাপি পাঠ্যক্রমে ভর্তি করা হয়। মেডিক্যাল কলেজের ডিনের কথায়, ‘‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও ভুল করেছে। আমাদের সিট খালি নেই। আমরা ভর্তি করব কী করে?’’

আর স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক সুজিষ্ণু মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘ভুলটা আমাদের নয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের। যার জন্য বৈধ এক জন প্রার্থীকে এতটা হেনস্থা ভোগকরতে হল।’’

আর যে প্রশ্নের উত্তর তদন্তের দাবি রেখে অধরা রইল, তা হল বৈধ প্রার্থী থাকতে ভুতুড়ে কোন প্রার্থী কী ভাবে উড়ে এসে জুড়ে বসলেন? তাঁর খুঁটির জোর কতটা যে তাঁকে বহাল রেখে বৈধ প্রার্থীকে বিষয় বদল করতে বাধ্যকরা হল!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Paramedical medical college

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy