অরূপ বিশ্বাস ভোটে হারতেই মেসি-কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অভিযুক্ত শতদ্রুর দাবি, পরিবারকে বাঁচানোর জন্যই তিনি এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু এ বার আর তিনি চুপ করে থাকবেন না। শীঘ্রই সব তথ্য ‘ফাঁস’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অরূপের ভোটে হারা সংক্রান্ত একটি ছবি পোস্ট করে শতদ্রু লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ, এ বার আমার খেলা শুরু।” একই সঙ্গে আরও বেশ কিছু দাবি করেছেন যুবভারতীকাণ্ডে অভিযুক্ত। যুবভারতীর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন শতদ্রু। সেখানে তাঁর দাবি, মাঠে প্রবেশের জন্য বিশেষ কার্ডের জোগান দিতে তাঁর লোকেদের (সংস্থাকে) জোর করা হয়েছিল। রাজি না হওয়ায়, একটি ঘরে আটকে রেখে ‘ভয় দেখানো’ হয়েছিল বলেও দাবি শতদ্রুর। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, এ বার সকলকে তার ফল ভোগ করতে হবে। যদিও এই অভিযোগগুলির সঙ্গে সরাসরি অরূপের নামোল্লেখ করেননি তিনি।
শতদ্রুর দাবি, তাঁকে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে। তাঁর তিন বছরের পরিশ্রমে জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ শতদ্রুর। তবে জামিনে মুক্তির পরেও কেন এত দিন চুপ ছিলেন, তা নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। শতদ্রুর বক্তব্য, “যখন আমাকে জেলে ঢোকানো হল, তখন শুধু আমাকে নয়, আমার পরিবারকেও টার্গেট করা হয়েছিল। আমাকে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছিল, ‘যদি মুখ খোলো, তোমার ফ্যামিলিকে শেষ করে দেব।’ আমি চুপ ছিলাম আমার পরিবারকে বাঁচাতে। প্রতিদিন, প্রতি রাত এই ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়েছিল। আমি সব সয়েছি। কিন্তু এ বার আর নয়। এ বার সত্যি বেরোবে, এ বার সব সামনে আসবে। আমি চুপ থাকব না।” একটি পোস্টে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শতদ্রু।
আরও পড়ুন:
গত বছরের শেষে ভারত সফরে এসেছিলেন লিয়োনেল মেসি। ওই সফরের আয়োজক ছিলেন শতদ্রু। গত ১৩ ডিসেম্বর ফুটবল তারকার কলকাতা সফরের সময়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তার জেরে ওই দিনেই শতদ্রুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এখন তিনি জামিনে মুক্ত। যুবভারতী কাণ্ডের ৩৭ দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি।
যুবভারতীর মাঠে মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন দর্শকেরা। কিন্তু অনুষ্ঠানের পুরো সময়টায় ফুটবল তারকাকে ঘিরে ছিলেন আয়োজক এবং রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা। দর্শকাসন থেকে তাঁকে দেখতে পাননি অনুগামীরা। এর পরে মেসি মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে ক্রোধে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। যুবভারতীতে মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে থাকার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ বার অরূপ ভোটে হারতেই যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু।