লিভারের রোগ মানেই কিন্তু শুধু জন্ডিস নয়। লিভারে মেদ জমে, তার থেকে ধীরে ধীরে ক্ষত তৈরি হয় লিভারে। একে বলে সিরোসিস। লিভারের এ রোগ একদিনে হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে তা ধীরে ধীরে ধ্বংস করতে থাকে লিভারকে। লিভারে ক্ষত হতে থাকলে তার লক্ষণ আগে থেকেই প্রকাশ পায়। সেগুলি বুঝতে না পেরে এড়িয়ে যান অনেকেই।
লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে এই অসুখ জন্ম নেয়। লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয় এই অসুখের প্রভাবে। অনেকেরই ধারণা, কেবল অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এই অসুখ হানা দেয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, মদ্যপান ছাড়াও প্রতি দিনের বেশ কিছু ভুল অভ্যাসের জেরেও এই অসুখ হতে পারে।
লিভার সিরোসিসের কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
কালশিটে পড়তে পারে
শরীরে ঘনঘন কালশিটে পড়ে কি? তা হলে সতর্ক হোন। লিভার ভিটামিন কে-এর সাহায্যে একটি প্রোটিন উৎপাদন করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। লিভার পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত রক্তের কোষগুলির ভাঙনেও সহায়তা করে। লিভার যদি ক্ষতিগ্রস্ত থাকে তাহলে এটি প্রয়োজনমতো প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে না।
ঘন ঘন জন্ডিস
জন্ডিস হলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। লিভার থেকে নিঃসৃত হওয়া পিত্ত বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশি হয় গেলে জন্ডিস হয়। লিভারে ক্ষত তৈরি হলেও লিভার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। তখন ঘন ঘন জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন:
গোড়ালিতে জ্বালা
পা ও গোড়ালিতে জ্বালা অনুভূত হলে সতর্ক হতে হবে। অ্যালবুমিন প্রোটিনের উৎপাদন কমে গেলে এ রকম সমস্যা হয়। লিভারে ক্ষত হলে প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়। রক্তে এই তরল প্রোটিনের পরিমাণ কমে গেলে তা রক্তনালিকায় জমতে শুরু করে। তখন ব্যথা হয়।
ওজন কমতে থাকবে
খিদে কম হবে, পেটে সবসময়েই ব্যথাবেদনা থাকবে, ঘন ঘন জন্ডিস হবে ও সে সঙ্গে ওজনও কমতে থাকবে। এমন হলে বুঝতে হবে লিভারে জটিল অসুখ বাসা বেঁধেছে।