বিশ্ব উষ্ণায়নের চাপে গরমকাল ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। বাতানুকূল যন্ত্রের ঠান্ডা হাওয়া এখন শুধু আরামের জন্য নয়, বরং হয়ে উঠছে প্রয়োজনীয়। তবে এসি শুধু চালালেই হল না, নিয়ম করে সেটির রক্ষণাবেক্ষণ করাও জরুরি। যান্ত্রিক ত্রুটি যেমন বিপজ্জনক হতে পারে, তেমনই এসি থেকে ফুসফুসের সমস্যাও হতে পারে। কখন বুঝবেন, এসির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন?
নামী এসি বিক্রয়কারী সংস্থার উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানাচ্ছেন ৫ বিষয় দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি—
· ঘর ঠান্ডা হতে দেরি হওয়া।
· আচমকা কোনও শব্দ হওয়া বা যন্ত্রটি কাঁপতে থাকা।
· আচমকা বিদ্যুতের বিল বেশি আসা।
· এসি থেকে বিশ্রী গন্ধ বেরোনো।
· এসি থেকে জল পড়া শুরু হওয়া।
শুধু যান্ত্রিক সমস্যা নয়, ক্ষেত্রবিশেষে এসি হয়ে উঠতে পারে অসু্স্থতার কারণ। বেঙ্গালুরু নিবাসী ফুসফুসের চিকিৎসক সুনীল কুমার কে বলছেন, এসি ঘরের থাকার পরে ক্রমাগত হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়ার নেপথ্যে থাকতে পারে অপরিচ্ছন্ন এসি। দীর্ঘ দিন পরে এসি চালালে বা নিয়ম করে তা রক্ষণাবেক্ষণ না করলে, এসির ফিল্টারে ধুলো-ময়লা তো হয়ই, ছত্রাকও বাসা বাঁধে। এসি চালালে সেই ধুলো, জীবাণু ঘরের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। শ্বাসের সঙ্গে তা ফুসফুসেও ঢুকে পড়ে, তা থেকেই সমস্যা শুরু হয়। শুধু সর্দি-কাশি নয়, কখনও কখনও অপরিচ্ছন্ন এসি ফিল্টার আরও বড় অসুখের কারণ হতে পারে।
এসি ঘরে রাতভর থাকলে, অনেকেরই গা হাত-পা ভারী হয়। ত্বক শুকিয়ে যায়। কারও কারও মাথা ব্যথাও শুরু হয়। এই ধরনের উপসর্গ আসলে বাতাস সঞ্চালনের সমস্যার ইঙ্গিতবাহী। বিশুদ্ধ বাতাসের অভাবেও এমনটা হতে পারে। এসি ঘরে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হলে তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা ভাল। একই সঙ্গে দরকার পর্যাপ্ত জল খাওয়া, যাতে ত্বক শুকিয়ে না যায়। শরীরে জলের অভাব না ঘটে।