Advertisement
E-Paper

আটলান্টিকে ভাসমান প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানা, মৃত ৩, বিশ্ব জুড়ে কি নতুন আতঙ্ক? উদ্বেগে হু

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিয়ে বিপদে প্রায় ১৫০ জন। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১১:২৩
Suspected Hantavirus outbreak on an Atlantic cruise ship, died three

হান্টার আতঙ্ক, কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হান্টাভাইরাস কি ছড়িয়ে পড়ছে? আতঙ্কে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসের যাত্রীরা। ২৩টি দেশের ১৪৯ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যেরা আটকে রয়েছেন জাহাজে। মনে করা হচ্ছে, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে যাত্রীদের মধ্যে। তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, সংক্রমিত আরও দু’জন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও অনেক যাত্রী। তাঁদের শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে কি না তা জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। জাহাজে যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ও মনে করা হচ্ছে যাঁরা সংক্রমিত, তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে আনার চেষ্টা চলছে।

পশ্চিম আফ্রিকার কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে জাহাজটি নোঙর করা থাকলেও, সংক্রমণের ভয়ে কেউই এখনও পর্যন্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ভিতরে আটকে পড়ে আতঙ্কের প্রহর গুনছেন যাত্রীরা। গোটা পরিস্থিতিতে নজর রাখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

কতটা বিপজ্জনক হান্টাভাইরাস?

হান্টা নতুন কোনও ভাইরাস নয়। মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীদের মাধ্যমে ছড়ায়। জুনোটিক ভাইরাস যা পশুর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। করোনার মতোই হান্টা আরএনএ ভাইরাস। দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার খুব তাড়াতাড়ি তাদের জিনের রাসায়নিক বদল বা মিউটেশনও ঘটাতে পারে। হু জানাচ্ছে, এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকে পড়লে সবচেয়ে আগে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে।

বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করেও ছড়াতে পারে হান্টাভাইরাস। ইঁদুর জাতীয় প্রাণীয় মলমূত্র, দেহাবশেষ থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। হান্টার সংক্রমণ ঘটলে প্রাথমিক লক্ষণে জ্বর, পেশির ব্যথা ও পেশির খিঁচুনি শুরু হয় রোগীর। ধীরে ধীরে ভাইরাস ঢুকে পড়ে শ্বাসনালিতে। সেখানে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে ও শেষে ফুসফুসে গিয়ে বাসা বাঁধে। এর সংক্রমণে ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ দেখা দেয় যাতে ফুসফুস বিকল হতে শুরু করে। মারাম্তক শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রোগীর। ফুসফুসে জল জমতে থাকে।

ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে হান্টার হানায় হেমারেজিক ফিভার ও রেনাল সিনড্রোমও দেখা দিয়েছে আগে। এতে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হরাতে থাকে এবং শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। তখন রোগীর প্রাণসংশয় ঘটে।

ভারতে ভয় কতটা?

ইউরোপ বা আমেরিকার মতো ভারতে হান্টার সংক্রমণ খুব বেশি ঘটেনি। ২০০৫ সালে চেন্নাইয়ে এক উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৬ সালে মুম্বইয়ে হান্টার হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর পরে দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায় এই ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল নানা সময়ে।

আমেরিকার সেন্টার ফর ড্রাগ কন্ট্রোল জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। ভাইরাসটি যদি বহুজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে আতঙ্কের কারণ ঘটতে পারে। এই ভাইরাসকে কাবু করার কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ও টিকা নেই। ভাইরাসটিকে শনাক্ত করাও কঠিন। তাই সাবধানে না থাকলে বিপদ ঘটতে পারে।

Atlantic Ocean Virus Cruise Ship
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy