কখনও ভ্যাপসা গরম, আবার কখনও বৃষ্টি। আবহাওয়ার ভোলবদলে শ্বাসের রোগের উৎপাত বাড়ে। এ সময়ে হাঁপানি বড় কষ্টকর হয়ে ওঠে। অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হলে তা সহজে সারে না। সিওপিডি রোগীরা বিলক্ষণ বোঝেন শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা। ফুসফুসের যে কোনও রোগই এখন বাড়ছে। আবহাওয়ার দ্রুত বদল ঘটলে, তা আরও বাড়ে। আসলে ফুসফুসে বাতাস বহনকারী সরু সরু টিউবের মতো অজস্র নালি আছে। অ্যালার্জি ও অন্যান্য কারণে সূক্ষ্ম শ্বাসনালিগুলির মাংসপেশি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ঠিকমতো বাতাস চলাচল করতে পারে না। শরীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। আর এর ফলে নিঃশ্বাসের কষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। এই সমস্যার সমাধান কেবল ওষুধ বা ইনহেলারে সম্ভব নয়। সে জন্য নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করাও জরুরি।
পদ্ম-মৎস্যাসন বা পদ্মাসনে মৎস্যাসন এমন এক আসন, যা বুকের পেশিকে প্রসারিত করে। আসনটি নিয়মিত অভ্যাসে বুক ও পিঠের পেশির স্ট্রেচিং হয়। তাতে ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে। শ্বাসজনিত যে কোনও রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর চিত হয়ে শুয়ে দুই পা টানটান করে রাখুন। দুই হাত থাকবে পাশে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) এ বার ওই ভাবে শুয়ে থেকেই দুই পা মুড়ে পদ্মাসনের ভঙ্গি করতে হবে। ডান পা বাঁ ঊরুর উপর এবং বাঁ পা ডান ঊরুর উপর রাখতে হবে।
আরও পড়ুন:
৩) পিঠ সামান্য তুলে ধনুকের মতো ভঙ্গি করতে হবে। এর জন্য কনুই, নিতম্ব ও মাথায় ভর দিয়ে পিঠ তুলতে হবে।
৪) পায়ের ভঙ্গি বদলালে চলবে না, পা কিন্তু পদ্মাসনের ভঙ্গিতেই থাকবে।
৫) দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙুল টেনে ধরতে হবে। ওই ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
৬) ৩০ সেকেন্ড করে ৪-৫ সেটে আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা
ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়বে, শ্বাসকষ্ট কমবে।
হাঁপানির সমস্যা থাকলে তা ধীরে ধীরে নির্মূল হবে, সিওপিডির রোগীদের জন্যও আসনটি উপকরী।
বুক ও পিঠের পেশির স্ট্রেচিং হবে।
নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে।
উদ্বেগ কমবে, মনঃসংযোগ বাড়বে।
কারা করবেন না?
হার্টের অসুখ থাকলে আসনটি করা যাবে না।
মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকলে বা স্লিপ ডিস্ক থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি অভ্যাস করা যাবে না।