প্রতি বারই বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশের তরফে অভিযোগ ওঠে, ভোটের দিন তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। বহুতলের ওই ভোটারেরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, এ বার সে জন্য যেমন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনই তাঁদের মনে আস্থা ফেরাতে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকও করলেন পুলিশকর্তারা।
সূত্রের খবর, সোমবার রাতে মানিকতলা এবং ফুলবাগান এলাকার বিভিন্ন বহুতলে যান কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীরকর্তারাও। উভয় পক্ষের তরফে বহুতলগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। তাঁরা যে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করেন পুলিশকর্তারা। এক পুলিশকর্তা জানান, ওই বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে ও ভয় দূর করতে সেখানে গিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। আশাকরা যায়, এতে তাঁদের ভয় দূর হবে এবং তাঁরা ভোট দিতে যাবেন। অন্য দিকে, পুলিশ জানিয়েছে, বহুতলের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আবাসনে ঢোকার মুখে দুষ্কৃতীরা ভয় দেখায়। এমনকি, তাদেরঅগ্রাহ্য করে ভোট দিতে গেলে আবাসনের সামনে নোংরা ফেলে বা বেআইনি ভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হয়। এ বার যাতে তেমন কিছু না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন বহুতল ওবস্তির দিকে নজর রাখতে, যাতে কোনও ভাবেই বাসিন্দাদের ভোটদানে কেউ বাধা দিতে না পারে। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশ এলাকায় কয়েকশো ছোট-বড় বহুতল রয়েছে।তার মধ্যে কিছু আবাসনে এ বার বুথ করা হয়েছে।
লালবাজার জানিয়েছে, এ বারের ভোট শান্তিপূর্ণ করতে প্রায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশ এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেল থেকে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের এক হাজার কর্মীকে নিয়ে গঠিত সেক্টর মোবাইল, আরটি মোবাইল, হেভি রেডিয়ো ফ্লাইংস্কোয়াড টহল দেওয়া শুরু করেছে। পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, ২০ হাজার পুলিশকর্মী এবং ২০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে দিয়ে কলকাতা পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলা হলেও বুধবার ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে পার করাটাই লালবাজারের কাছে চ্যালেঞ্জ।
কলকাতা পুলিশকে এ বার সামলাতে হচ্ছে ১৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট। যার মধ্যে রয়েছে মেটিয়াবুরুজ এবং ক্যানিং-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের একাংশ। এ বার মোট বুথের সংখ্যা ৫১৭২, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬১। সব বুথেই মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথের ভোটারদের লাইন দেখাশোনার জন্য থাকছেন কলকাতা পুলিশের এক জন করে কর্মী।
এ দিকে, সোমবারই কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিয়ো বৈঠক করেন কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ। সেখানে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভোটের দিন গোলমাল হলে তার দায় থেকে তাঁরা মুক্ত হবেন না। কোথাও থেকে বোমাবাজি বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে বলে আগেই কমিশন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এর সঙ্গেই নির্বাচন যাতেশান্তিপূর্ণ ভাবে হয়, তা-ও নগরপাল দেখতে বলেছেন পুলিশ আধিকারিকদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)